
কলকাতা: গতকাল রাতে দিল্লিতে কয়লা কাণ্ডে গ্রেফতার হয়েছেন আইপ্যাকের সহ কর্ণধার এবং ডিরেক্টর ভিনেশ চান্দেল। (Kalyan Banerjee)এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে আইপ্যাক নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তৃণমূল নেতা কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, “আমার এই গ্রেফতার নিয়ে কোনো মন্তব্য নেই। তবে ইডি, সিবিআই-কে এখানে আনা হয়েছে তৃণমূল নেতাদের হয়রানি করার জন্য। সুজিত বোসের মতো নেতাদের বিরুদ্ধে এই সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে।” তিনি অভিযোগ করেন নির্বাচনের আগে তৃণমূলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠিয়ে তৃণমূল নেতাদের হেনস্থা করা হচ্ছে।
তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের বিরোধী দল তৃণমূলকে দুর্বল করতে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে এই ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে।ভিনেশ চন্দেলের গ্রেফতারের ঘটনাটি দিল্লিতে হয়েছে। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২০ সালের নভেম্বরে সিবিআই-এর দায়ের করা একটি এফআইআর-এর ভিত্তিতে এই তদন্ত চলছিল। পূর্বাঞ্চলীয় কয়লাক্ষেত্র লিমিটেডের (ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড) কুনুস্তোরিয়া ও কাজোরা এলাকার খনি থেকে কয়লা পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
আরও দেখুনঃ কোচবিহার দক্ষিণে রাজনৈতিক উত্তাপ, বিক্ষোভে পড়লেন কংগ্রেস প্রার্থী
ইডি দাবি করেছে, পাচারের প্রায় ২০ কোটি টাকা হাওলা চ্যানেলের মাধ্যমে আই-প্যাকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। আই-প্যাক, যা প্রশান্ত কিশোর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা, বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচারণার দায়িত্ব সামলাচ্ছে। তাই এই গ্রেফতারকে অনেকেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখছেন।
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আবহে এই ঘটনাগুলি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তৃণমূল নেতৃত্ব মনে করছে, কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলি ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচনের ঠিক আগে এমন পদক্ষেপ নিয়ে তাদের প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি করছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ অন্যান্য তৃণমূল নেতারাও এই গ্রেফতারকে ‘গণতন্ত্রের ওপর আক্রমণ’ এবং ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নষ্ট করার চেষ্টা বলে উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে, বিজেপি এই গ্রেফতারকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেন্দ্রের কঠোর অবস্থান হিসেবে তুলে ধরছে। তাদের দাবি, তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা দুর্নীতিতে জড়িত থাকলে তদন্ত হবেই। কয়লা পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়া উচিত নয় বলেও মনে করছেন বিজেপি নেতারা।

