কলকাতা: আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে রাজ্যে শান্তিপূর্ণ ও অবাধ ভোট প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে এবার কড়া অবস্থান নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।(Election Commission) নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ছে। বিশেষ করে ভোটের সময় অশান্তি রুখতে কমিশনের নজর এবার তথাকথিত ‘ভিআইপি রাউডি’দের ওপর।
সোমবার রাজ্যের সমস্ত জেলা প্রশাসন ও পুলিশ কমিশনারেটের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল বৈঠক করে কমিশন। সেই বৈঠকেই স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে ভোটের সময় গোলমাল পাকাতে পারে, এমন কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তিকেও আর রেয়াত করা হবে না। প্রশাসনের কাছে নির্দেশ গেছে, প্রতিটি থানার আওতায় অন্তত ১০ জন করে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে হবে, যাদের বিরুদ্ধে আগেভাগেই নজরদারি চালানো হবে।
আরও দেখুনঃ মোদী প্রতিবাদ করেননি! ব্যারাকপুরে পাকিস্তানকে টুকরো করার হুঁশিয়ারি রাজনাথের
‘ভিআইপি রাউডি’ বলতে কাদের বোঝানো হচ্ছে, তা নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও প্রশাসনিক সূত্রের দাবি এই তালিকায় থাকছেন এমন ব্যক্তিরা, যারা সরাসরি সামনে না এলেও পর্দার আড়ালে থেকে ভোট প্রভাবিত করার কাজ করেন। অনেক ক্ষেত্রেই তারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে এলাকায় প্রভাব খাটান, ভোটারদের ভয় দেখানো বা বুথ দখলের মতো কাজে যুক্ত থাকেন। ফলে এবার তাদের গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখা হবে।
প্রতি নির্বাচনের আগেই পুলিশ সাধারণত দুষ্কৃতীদের একটি তালিকা তৈরি করে এবং তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নেয়। কিন্তু এবার সেই প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। কমিশন চায়, ভোটের আগে থেকেই সম্ভাব্য অশান্তিকারীদের নিয়ন্ত্রণে আনা হোক, যাতে ভোটের দিন কোনোভাবেই সাধারণ মানুষ ভোট দিতে বাধার মুখে না পড়েন। প্রয়োজনে আগাম আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ভোটার তালিকা নিয়েও বড় আপডেট সামনে এসেছে। কমিশন প্রথমবারের মতো ‘বিচারাধীন’ ভোটারদের একটি বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, প্রায় ৬০ লক্ষেরও বেশি ভোটারকে প্রথমে যাচাইয়ের আওতায় আনা হয়েছিল। তার মধ্যে প্রায় ৩২ লক্ষ ভোটারকে যোগ্য বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
এতেই শেষ নয়। চূড়ান্ত তালিকা এবং পরবর্তী সাপ্লিমেন্টারি তালিকা মিলিয়ে মোট প্রায় ৯০ লক্ষেরও বেশি নাম বাদ পড়েছে বলে জানা গেছে। এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ যাওয়াকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে কমিশনের বক্তব্য, এই পুরো প্রক্রিয়াই স্বচ্ছতা বজায় রেখে করা হয়েছে এবং শুধুমাত্র সঠিক ও বৈধ ভোটারদেরই তালিকায় রাখা হয়েছে।




















