অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে (Visakhapatnam) এক স্থানীয় ক্রিকেট ম্যাচকে কেন্দ্র করে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা, যা আবারও মনে করিয়ে দিল যে খেলাধুলার মাঠে সামান্য মতভেদও কখনও কখনও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। সাধারণত জয়-পরাজয় খেলারই অঙ্গ, আর আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়েও বিতর্ক নতুন কিছু নয়। কিন্তু সেই বিতর্ক যে প্রাণঘাতী আকার নিতে পারে, তারই করুণ উদাহরণ তৈরি হল এই ঘটনায়।
গত রবিবার সন্ধ্যায় বিশাখাপত্তনমের পেদাগাদিলি এলাকায় একটি ২০ ওভারের স্থানীয় ক্রিকেট ম্যাচ চলছিল, যেখানে অংশ নিয়েছিল বিনায়ক নগর, চাকালি পেটা এবং পেদাগাদিলি, এই তিনটি দল। খেলার সময় একটি রান-আউটের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। ব্যাটিং করছিলেন ডি অজিত, এবং নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে নেওয়া ওই সিদ্ধান্ত নিয়ে উত্তেজনা চরমে ওঠে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এগিয়ে আসেন ম্যাচের আম্পায়ার বি চিরঞ্জীবী, যিনি পেদাগাদিলি দলের সদস্যও ছিলেন। তিনি শান্তভাবে উভয় পক্ষকে বোঝান এবং শেষ পর্যন্ত ঝামেলা মিটিয়ে খেলা আবার শুরু করান। ম্যাচও শেষ হয় কোনও বড় ধরনের অশান্তি ছাড়াই, এবং দুই দলই স্বাভাবিকভাবে মাঠ ছাড়ে। কিন্তু ঘটনার আসল মোড় আসে কয়েক ঘণ্টা পরে। কান্ত কিশোর নামে এক ব্যক্তি, যিনি ‘বক্সার’ নামেও পরিচিত এবং ম্যাচ চলাকালীন দর্শক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, হঠাৎ অজিত এবং আম্পায়ার চিরঞ্জীবীর সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। প্রথমে উপস্থিত লোকজন পরিস্থিতি সামাল দিলেও তাঁর ক্ষোভ কমেনি।
পরে তিনি অজিত ও চিরঞ্জীবীকে পেদাগাদিলি জংশনে ডেকে পাঠান কথাবার্তার অজুহাতে। সেখানে পৌঁছানোর পর দেখা যায়, কিশোর মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন এবং শুরু করেন অশালীন ভাষায় গালিগালাজ। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে তিনি পকেট থেকে ছুরি বের করে অজিতের বুকে আঘাত করেন। অজিতকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে আম্পায়ার চিরঞ্জীবী এবং আরও কয়েকজন পথচারীও গুরুতরভাবে আহত হন।
গুরুতর আহত অবস্থায় অজিতকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তাঁর মৃত্যু হয়, যা এই ঘটনাকে আরও হৃদয়বিদারক করে তোলে। ঘটনার পর অভিযুক্ত কিশোর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। নিহতের বাবা ডি আপ্পালা রাজু পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যা মামলা রুজু করেছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতারের জন্য জোর তল্লাশি শুরু হয়েছে। এই ঘটনা শুধু একটি অপরাধ নয়, বরং সমাজের জন্য একটি সতর্কবার্তা। খেলাধুলার মাঠে আবেগ থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু সেই আবেগ যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন তা ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে। তাই এমন ঘটনা এড়াতে খেলোয়াড়, দর্শক এবং সংশ্লিষ্ট সকলেরই আরও সচেতন ও সংযত হওয়া প্রয়োজন।




















