কলকাতা: অনুশীলনের মাঝেই হঠাৎ থমকে গিয়েছিল লাল-হলুদ শিবির। গোড়ালিতে হাত দিয়ে বসে পড়েছিলেন মহম্মদ রশিদ (Mohammed Rashid)। সেই মুহূর্তে যেন নিঃশব্দ হয়ে যায় মাঠ। সতীর্থদের চোখে উদ্বেগ, কোচিং স্টাফ ছুটে আসেন, আর সমর্থকদের মনে একটাই প্রশ্ন, মরশুমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কি ছিটকে গেলেন দলের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা?
১১ এপ্রিল চেন্নাই এফসির বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে এই চোট স্বাভাবিক ভাবেই বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনুশীলনে সৌভিক চক্রবর্তীর একটি শক্ত ট্যাকলে চোট পান রশিদ। প্রথমে আশঙ্কা করা হয়েছিল, অন্তত তিন সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে তাঁকে। লিগের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন খবর স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বেগ বাড়ায়। কোচ অস্কার ব্রুজো এর পরিকল্পনায়ও বড় ধাক্কা লাগার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, কারণ মাঝমাঠে রশিদই তাঁর সবচেয়ে ভরসার ফুটবলার।
রশিদ শুধু একজন মিডফিল্ডার নন, তিনি দলের খেলার গতি ও ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করেন। রক্ষণ থেকে আক্রমণে বল পৌঁছে দেওয়া, প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেওয়া— সব ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে তাঁর সম্ভাব্য অনুপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। তবে সেই দুশ্চিন্তার মধ্যেই আসে স্বস্তির খবর। চিকিৎসা পরীক্ষার রিপোর্ট সামনে আসতেই পরিষ্কার হয়ে যায়, চোট ততটা গুরুতর নয়। হাড়ে কোনও সমস্যা নেই, মূলত নরম পেশিতে আঘাত লেগেছে।
চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চললে দ্রুত সেরে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহেই মাঠে ফিরতে পারেন এই প্যালেস্তাইনের তারকা ফুটবলার। তবে ১১ এপ্রিলের ম্যাচে তাঁকে নামানো হবে কি না, সেই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি দল। কোনও রকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না কোচিং স্টাফ। কারণ মরশুমের বাকি অংশে তাঁকে পুরোপুরি সুস্থ অবস্থায় পাওয়া আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, জাতীয় দল থেকে ফেরা আনোয়ার আলির ফিটনেসও ধীরে ধীরে উন্নতি করছে। ফলে দলের শক্তি বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে পয়েন্ট তালিকায় পঞ্চম স্থানে থাকা ইস্টবেঙ্গল নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহন বাগান এসজির সাম্প্রতিক ম্যাচে হোঁচট খাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে লাল-হলুদ শিবির। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আবার উপরের দিকে ওঠাই এখন লক্ষ্য। আর সেই লড়াইয়ে রশিদের দ্রুত প্রত্যাবর্তন হতে পারে দলের জন্য সবচেয়ে বড় প্রেরণা।




















