কলকাতা: আজ সকাল থেকে রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে ইডির ম্যারাথন তল্লাশি (ED raid)। ইতি মধ্যেই ইডির জালে বুদ্বুদ থানার ওসি মনোরঞ্জন মন্ডল। সূত্র ধরে জামুরিয়াতে কয়লা ব্যাবসায়ী রাজেশ বনসলের বাড়িতে চলছে ইডি তল্লাশি। ইডির আধিকারিকরা টাকা গোনার মেশিন এবং বস্তা নিয়ে পৌঁছেছেন বনসলের বাড়িতে। সন্দেহ করা হচ্ছে বিপুল পরিমান নগদ টাকা রয়েছে।
তবে কয়লা এবং বালি কাণ্ডে কি উঠে আসবে রাজনৈতিক প্রভাবশালীর নাম। কয়লা এবং বালি পাচার নিয়ে এর আগেও রাজ্যে ছড়িয়েছে রাজনৈতিক উত্তাপ। সম্প্রতি আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং আইপ্যাক দফতরে চলেছে ইডি তল্লাশি। সেই তল্লাশিতে হস্তক্ষেপ করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। এই মুহূর্তে তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে চলছে একাধিক মামলা।
২০১৪ সালের পর থেকে রাজ্যে কয়লা এবং বালি পাচার কান্ড নিয়ে একাধিক তল্লাশি হয়েছে। ঘটনাচক্রে এই তল্লাশিতে নাম জড়িয়েছিল অভিষেক বন্দোপাধ্যায়েরও। তখন থেকেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের সন্দেহ এই ধরণের দুর্নীতিতে রাজনৈতিক প্রভাবশালী না জড়িয়ে থাকলে কিছুতেই এই ধরণের দুর্নীতি করার সাহস পাওয়া যায় না।
আরও দেখুন: আসানসোলে উদ্ধার প্রচুর টাকা, টাকা গুনতে মেশিন আনাল ইডি
তারপর আইপ্যাক কাণ্ডে স্বয়ং মমতা বন্দোপাধ্যায়ের আবির্ভূত হওয়া এবং সবুজ ফাইল তুলে বেরিয়ে পড়ার ঘটনা দেখে বিরোধীরা আর ঢাক ঢাক গুড় গুড় না করে প্রকাশ্যে তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা বন্দোপাধ্যায়কে নিশানা করেছে। প্রকাশ্যে তাকে কয়লা চুরি নিয়ে প্রশ্নের মুখেও পড়তে হয়েছে। তবে আজকের এই ইডি তল্লাশি এবং প্রথমে মনোরঞ্জন, যার নাম আগেও একাধিক বার দুর্নীতিতে জড়িয়েছে এবং ব্যাবসায়ী রাজেশ বনসলের ধরা পড়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বিরোধী এবং রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যাক্তির হাত মাথায় না থাকলে এরা বাংলার বুকে এইভাবে দুর্নীতি করতে পারত না। তারা উদাহরণ দিয়ে বলেছে যেভাবে কয়লা কাণ্ডে অভিষেক, গরু কাণ্ডে অনুব্রত, রেশন দুর্নীতিতে জ্যোতিপ্রিয় এবং সব শেষে ফাইল চুরি কাণ্ডে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নাম জড়িয়ে যাই তাতে এখন রাজ্যের প্রত্যেকটি মানুষ বুঝতে পারছে এই ধরণের দুর্নীতি শুধু মাত্র রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের তত্ত্বাবধানেই সম্ভব।
পাল্টা তৃণমূল মুখপাত্ররা জবাব দিয়েছেন যে নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় এজেন্সি ঢুকিয়ে দিয়ে বাংলাকে কলুষিত করার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে এই জাতীয় ঘটনা আজ নতুন নয়। এর আগেও চাকরি দুনীতিতে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছিল জনৈক প্রাক্তন মন্ত্রীর বান্ধবীর বাড়ি থেকে। তাই এবারেও বিরোধীরা মনে করছেন এই দুর্নীতিতেও তৃণমূল যোগ স্পষ্ট এবং তদন্তের পরে হয়তো উঠে আসবে কোনো প্রভাবশালীর নাম।




















