নয়াদিল্লি: আইপ্যাক অফিসে ইডি-র তল্লাশি অভিযান নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় আইনি লড়াইয়ে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতে জমা দেওয়া ৩৪ পাতার এক হলফনামায় তিনি অভিযোগ করেছেন, এই তল্লাশি নিছক তদন্ত নয়, বরং রাজনৈতিক অভিসন্ধিমূলক। এমনকি ওই সময় তৃণমূলের প্রার্থী তালিকার খসড়া চুরির চেষ্টা হয়েছিল বলেও চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন তিনি।
‘টাইমিং’ নিয়ে প্রশ্ন ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর হলফনামায় ইডি-র অভিযানের সময় বা ‘টাইমিং’ নিয়ে কড়া প্রশ্ন তুলেছেন। তৃণমূল সুপ্রিমোর দাবি, যখন আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য দলের অত্যন্ত সংবেদনশীল নথি এবং প্রার্থীদের খসড়া তালিকা আইপ্যাক অফিসে রাখা ছিল, ঠিক তখনই এই তল্লাশি চালানো হয়। তাঁর মতে, বিরোধী দলকে হেনস্তা করতে এবং রাজনৈতিক গোপন তথ্য হাতিয়ে নিতেই কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
নথি কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার Mamata ED legal fight
এর আগে ইডি অভিযোগ করেছিল যে, মুখ্যমন্ত্রী নিজে উপস্থিত হয়ে তদন্তে বাধা দিয়েছেন এবং বেশ কিছু নথি কেড়ে নিয়েছেন। এদিনের হলফনামায় সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ নস্যাৎ করেছেন মমতা। তিনি সাফ জানিয়েছেন, গত জানুয়ারির ওই অভিযান থেকে কোনও প্রমাণ বা নথি কেড়ে নেওয়া হয়নি। বরং তাঁর দাবি, কয়লা কাণ্ডের সঙ্গে আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের কোনও যোগসূত্র আজ পর্যন্ত প্রমাণ করতে পারেনি ইডি।
ইডির প্যাটার্ন নিয়ে আক্রমণ
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর তদন্তের একটি নির্দিষ্ট ‘প্যাটার্ন’ রয়েছে। যখনই নির্বাচন ঘনিয়ে আসে, তখনই পুরনো মামলাগুলিকে নতুন করে খুঁচিয়ে তোলা হয়। একে ‘সন্দেহজনক’ এবং ‘ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা প্রাইভেসিতে হস্তক্ষেপ’ বলে দাবি করেছেন তিনি।
শুনানি পিছল ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে এই বিশদ হলফনামা জমা দেওয়ার পর ইডি-র আইনজীবীরা জানান, ৩৪ পাতার এই দীর্ঘ বয়ান খতিয়ে দেখে তার যথাযথ জবাব দেওয়ার জন্য তাঁদের সময়ের প্রয়োজন। বিচারপতিরা ইডি-র সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন। ফলে আজ শুনানি সম্ভব হয়নি। আদালত জানিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টোর পর এই হাইভোল্টেজ মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।




















