মণিপুরে সরকার গঠনের জন্য বড় ঝাঁপ দিয়েছে বিজেপি (Manipur)। ভারতীয় জনতা পার্টির পার্লামেন্টারি বোর্ড আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলের ন্যাশনাল জেনারেল সেক্রেটারি তরুণ চুঘকে মণিপুরে বিজেপি লেজিস্লেটিভ পার্টি লিডার নির্বাচনের জন্য সেন্ট্রাল অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ মণিপুরে নতুন সরকার গঠনের দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজ্যে এখন রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে, যা শীঘ্রই শেষ হতে চলেছে। বিজেপি নেতৃত্ব এখন দ্রুত একটি জনপ্রিয় সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এ বিজেপির পার্লামেন্টারি বোর্ডের তরফে এই ঘোষণা করা হয়। দলের ন্যাশনাল জেনারেল সেক্রেটারি অরুণ সিং একটা বিবৃতিতে বলেন, “বিজেপি পার্লামেন্টারি বোর্ড তরুণ চুঘকে মণিপুরে লেজিস্লেটিভ পার্টি লিডার নির্বাচনের সেন্ট্রাল অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগ করেছে।” তরুণ চুঘ, দলের একজন প্রভাবশালী নেতা, যিনি এই প্রক্রিয়া তদারকি করবেন। তিনি নিশ্চিত করবেন যে নির্বাচন দলের নিয়ম মেনে সুষ্ঠুভাবে হয়। এর ফলে বিজেপি লেজিস্লেটিভ পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত হবে, যিনি সম্ভবত মুখ্যমন্ত্রী হবেন।
নাম-পদবি ভুল করে ভোট লুটের চেষ্টা, তোপ দাগলেন শুভেন্দু
মণিপুরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে অস্থির। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে বীরেন সিংয়ের নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার পদত্যাগ করে। তারপর থেকে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে। মেইতেই-কুকি সংঘাতের কারণে রাজ্যে অশান্তি চলছে, হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। রাষ্ট্রপতি শাসনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বিজেপি নেতৃত্ব একটা জনপ্রিয় সরকার গঠনের চেষ্টা করছে। এনডিএ-র এমএলএরা দিল্লিতে ডাক পড়েছে। প্রায় ২০ জন এমএলএ রবিবার রাতে পৌঁছেছেন, বাকিরা সোমবার এসেছেন। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁদের বৈঠক হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে তরুণ চুঘের নিয়োগ খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি দলের হাইকমান্ডের বিশ্বস্ত নেতা। মণিপুর বিজেপি প্রেসিডেন্ট অধিকারীমায়ুম শারদা দেবী বলেছেন, “সব এনডিএ এমএলএদের ডাকা হয়েছে। আমরা আশা করছি একটা জনপ্রিয় সরকার গঠিত হবে।” এনপিপি ও এনপিএফ-এর মতো জোটসঙ্গীরাও বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন। বিজেপির লক্ষ্য ৪৪ জনেরও বেশি এমএলএ-র সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করা। শপথগ্রহণ সম্ভবত বুধবার হতে পারে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে মণিপুরে বিজেপি সরকার গঠনের এই প্রচেষ্টা রাজ্যের অশান্তির মধ্যে একটা আশার আলো। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চাইছে দ্রুত স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে। তরুণ চুঘের ভূমিকা এখানে গুরুত্বপূর্ণ তিনি দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য নিশ্চিত করবেন এবং নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন সুষ্ঠু করবেন। রাজনৈতিক মহলে চর্চা হচ্ছে যে নতুন মুখ হতে পারে, কারণ নিরেন সিংয়ের পদত্যাগের পর দল নতুন করে শুরু করতে চাইছে।




















