প্রচার ছেড়ে মসনদ কামনায় সাগরসঙ্গমে শাহ

amit-shah-gangasagar-puja-west-bengal-election-campaign

কলকাতা: বাংলায় আজও জোরকদমে চলছে নির্বাচনী প্রচার। (Amit Shah)সব দলই চাইছে শেষ মুহূর্তে বাংলার মানুষের পাশে থাকার বার্তা দিতে। তবে কোলাহল থেকে বহুদূরে বাংলার মসনদ কামনায় গঙ্গা সাগরে পুজো সারলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। গতকাল ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে পুজো দিয়ে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আজ জগদ্দলের সভা থেকে আত্মবিশ্বাসী সুরে মোদী বলেছেন আজ দিল্লি ফিরে গিয়ে ফের ৪ তারিখ ফিরে আসবেন শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যেখানে বিজেপি সরকার বাংলার দায়িত্ব নেবে।

   

সাগরসঙ্গমে কপিল মুনির আশ্রমে পুজো দিয়ে বাংলার মসনদের জন্য আশীর্বাদ চাইলেন তিনি। গতকালই ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে মা কালীর আরাধনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উত্তর কলকাতার এই প্রাচীন কালী মন্দিরে পুজো দিয়ে রোডশো শুরু করেন তিনি। আজ জগদ্দলের সভায় এসে মোদী আরও জোরালো সুরে বললেন, “আমি দিল্লি ফিরে যাচ্ছি, কিন্তু ৪ মে-র পর আবার বাংলায় ফিরব বিজেপি সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে।

আরও দেখুনঃ ‘বুলডোজার’ মন্তব্যে তোলপাড়, দ্বিতীয় দফার আগে চাপ বাড়ছে রেখা পাত্রের উপর

বাংলার মানুষের আশীর্বাদে এবার পরিবর্তন অনিবার্য।” অমিত শাহের গঙ্গাসাগর সফরকে অনেকেই দেখছেন শুধু ধর্মীয় আচার হিসেবে নয়, বরং বাংলার আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করার একটি প্রয়াস হিসেবে। সাগরসঙ্গমে পুজো শেষে শাহ সাংবাদিকদের বলেন, “বাংলা আমার কাছে শুধু ভোটের রাজ্য নয়, এটা একটা সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক তীর্থভূমি। মা গঙ্গার কাছে প্রার্থনা করেছি, বাংলায় শান্তি, উন্নয়ন ও সুশাসন ফিরুক।”

বিজেপি শিবিরে এই পুজো-আচারকে বড় প্রতীকী বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দলীয় নেতারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ধর্মীয় সফর দেখিয়ে দিচ্ছে যে, বিজেপি বাংলার সনাতন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সম্মান করে। ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে মোদীর পুজোর পর জগদ্দলে বিশাল জনসমাবেশে তিনি বলেন, “আমি বাংলায় এসে যেন তীর্থযাত্রা করছি। মানুষের ভালোবাসা আমাকে আশীর্বাদ করেছে। ৪ মে-র ফল ঘোষণার পর আমাকে আবার আসতে হবে শপথ অনুষ্ঠানে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের শেষ পর্বে এই ধরনের আধ্যাত্মিক সফর দুটি বার্তা দিচ্ছে। প্রথমত, বিজেপি বাংলার হিন্দু ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে চাইছে। দ্বিতীয়ত, তৃণমূলের ‘সংখ্যালঘু তোষণ’ নীতির বিপরীতে সনাতনী ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে একটা বড় অংশের মন জয় করার চেষ্টা।

এদিকে দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে প্রচারের শেষ লগ্নে বিজেপি নেতারা আত্মবিশ্বাসী সুরে বলছেন, প্রথম দফায় ভোটারদের অংশগ্রহণ দেখে বোঝা যাচ্ছে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। অমিত শাহ বিভিন্ন সভায় বলেছেন, “বাংলায় আর অনুপ্রবেশ চলবে না। মা-বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।” মোদীও জগদ্দলে মতুয়া সম্প্রদায়ের উদ্দেশে আশ্বাস দিয়েছেন যে, সিএএ-র মাধ্যমে তাদের নাগরিকত্বের সমস্যা সমাধান করা হবে।