
হুগলি জেলার রাজনৈতিক মঞ্চে ফের নজর কাড়লেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপির অন্যতম শীর্ষ নেতা যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) । বিজেপি প্রার্থীর হয়ে নির্বাচনী প্রচারে এসে তিনি তারকেশ্বর মন্দিরে পুজো দিতে যান, যা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। রাজনৈতিক প্রচার এবং আধ্যাত্মিক দর্শনের এই মিলনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।
হুগলির তারকেশ্বর, (Yogi Adityanath) শিবভক্তদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত, সেখানে যোগী আদিত্যনাথের উপস্থিতি এক বিশেষ মাত্রা যোগ করে। প্রচার কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি সেখানে পৌঁছে প্রথমে মন্দিরে পুজো দেন এবং ঈশ্বরের কাছে দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেন বলে জানা গেছে। তাঁর এই মন্দির দর্শনকে বিজেপির তরফে “আধ্যাত্মিক সূচনা” হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যোগী আদিত্যনাথ হুগলিতে বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে একাধিক জনসভা ও রোডশোতে অংশগ্রহণ করেন। তারকেশ্বর মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর তিনি বলেন, উন্নয়ন ও ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়েই ভারত এগোচ্ছে। ধর্মীয় স্থানে উপস্থিতি শুধু ভক্তির প্রকাশ নয়, বরং এটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এই সফরকে ঘিরে হুগলির রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিজেপি শিবির এই ঘটনাকে জনসমর্থন বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে। তাদের দাবি, যোগী আদিত্যনাথের মতো জনপ্রিয় মুখের উপস্থিতি দলীয় প্রার্থীর প্রচারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের বক্তব্য, নির্বাচনের সময় ধর্মীয় স্থানকে রাজনৈতিক প্রচারের সঙ্গে যুক্ত করা আদর্শ আচরণবিধির প্রশ্ন তোলে।
তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এই সফর নিয়ে কটাক্ষ করে বলা হয়েছে, উন্নয়নমূলক ইস্যুর বদলে ধর্মীয় আবেগকে সামনে এনে ভোট টানার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের মতে, মানুষের আসল সমস্যা যেমন কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য—সেই বিষয়গুলোকে পাশ কাটিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা চলছে। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে খারিজ করা হয়েছে।
তারকেশ্বর মন্দিরে যোগী আদিত্যনাথের উপস্থিতি ঘিরে স্থানীয় ভক্তদের মধ্যেও উৎসাহ দেখা যায়। বহু মানুষ তাঁকে একনজর দেখতে ভিড় জমান। নিরাপত্তার কড়া ব্যবস্থার মধ্যেও ভক্তরা মোবাইলে ছবি তোলার চেষ্টা করেন। পুরো এলাকা কিছু সময়ের জন্য উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

