মিজোরাম: উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বিদেশি ভাড়াটে যোদ্ধাদের সক্রিয়তা নিয়ে (NIA foreign mercenaries)। সাম্প্রতিক তদন্তে উঠে এসেছে, রাশিয়ার গোয়েন্দা সূত্রের ইনপুটের ভিত্তিতেই ভারত এই চক্রের সন্ধান পায়। এরপর দীর্ঘ তিন মাসের নজরদারির পর অবশেষে অভিযানে নামে এনআইএ।
এই অভিযানে একাধিক বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা মায়ানমারভিত্তিক সশস্ত্র জাতিগত গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে যুক্ত এবং তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, জেরার সময় অভিযুক্তরা নিজেরাই স্বীকার করেছে যে তারা সীমান্ত পেরিয়ে মায়ানমারের বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
আরও দেখুনঃ ভবানীপুরের নির্বাচনী প্রচারে নন্দীগ্রামের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর বার্তা শুভেন্দুর
সূত্রের খবর, এই গোটা নেটওয়ার্কটি অত্যন্ত সংগঠিতভাবে কাজ করছিল। উত্তর-পূর্ব ভারতের দুর্গম সীমান্ত এলাকাকে ব্যবহার করে বিদেশি যোদ্ধারা সহজেই যাতায়াত করছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। বিশেষ করে মিজোরাম সহ কয়েকটি সীমান্তবর্তী রাজ্য এই নজরদারির আওতায় এসেছে। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, এই বিদেশি ভাড়াটে যোদ্ধাদের একটি বড় অংশের পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে আন্তর্জাতিক সংঘর্ষে। তারা আধুনিক যুদ্ধকৌশল, ড্রোন ব্যবহার, এবং গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দিতে সক্ষম। এই দক্ষতাই মায়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলিকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, এই যোদ্ধারা মায়ানমারের বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখত। এই গোষ্ঠীগুলি দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে। বিদেশি প্রশিক্ষণ এবং সহায়তা পেলে তাদের কার্যকলাপ আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মাত্রাও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রাশিয়ার ইনপুট ছাড়া হয়তো এই চক্র এত দ্রুত ধরা পড়ত না বলেই মনে করা হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সহযোগিতার গুরুত্বও নতুন করে সামনে এসেছে।
ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সন্দেহভাজন গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। একইসঙ্গে, এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় সহযোগীদেরও চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। তবে এই ঘটনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও উঠে এসেছে কীভাবে বিদেশি ভাড়াটে যোদ্ধারা এতদিন ধরে ভারতের মাটিতে অবস্থান করছিল এবং সীমান্ত পেরিয়ে কার্যকলাপ চালাচ্ছিল? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে।




















