বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর জেলায় জেলায় তৃণমূলের পার্টি অফিস ঘেঁটে মিলছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। (Narayanpur TMC)এই আবহেই এবার ঘুটিয়ারি শরীফের নারায়ণপুরে স্থানীয় তৃণমূল নেতা সালাউদ্দিন সর্দারের অফিস থেকে উদ্ধার হয়েছে ১৮টি ধারালো বাঁকানো অস্ত্র। সন্দেহ করা হচ্ছে ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের জন্যই এই অস্ত্র মজুত করা হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন তৃণমূল ভোটে জিততে পারলে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরী হতে পারত। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে পুলিশ নারায়ণপুরের ওই তৃণমূল অফিসে হানা দেয়।
অভিযান চালিয়ে একটি ঘর থেকে বেশ কয়েকটি বড় বড় ধারালো অস্ত্র বের করে আনে পুলিশ। সেই অস্ত্রগুলো দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকেই বলছেন, এগুলো দেখে মনে হচ্ছে কোনও সিনেমার অ্যাকশন সিকোয়েন্সের প্রপস নয়, বাস্তবের অস্ত্র। সালাউদ্দিন সর্দারের ঘনিষ্ঠ মহল থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে তৃণমূলের একাংশের দাবি, এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।
আরও দেখুনঃ বিজয়মিছিলে জেসিবি-তে ‘না’! নিয়ম ভাঙলেই শ্রীঘর! হুঁশিয়ারি সিপির
নেটিজেনরা এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই লিখছেন, “কল্পনা করুন, যদি তৃণমূল আবার জিতে যেত? তাহলে এই অস্ত্রগুলো কীভাবে ব্যবহার হত?” কেউ কেউ বলছেন, “এটা শুধু একটা অফিসের অস্ত্র নয়, এটা পুরো একটা ব্যবস্থার চেহারা।” ভাইরাল হওয়া একটি পোস্টে লেখা হয়েছে, “বিজেপি জিতেছে বলেই হয়তো এই অভিযান সম্ভব হল। না হলে এই অস্ত্রগুলো কখনোই আলোয় আসত না।”এই ঘটনা ঘটেছে ঠিক সেই সময়ে, যখন রাজ্যে নির্বাচনোত্তর হিংসার খবর আসছে।
বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষ, বাড়ি ভাঙচুর এবং আক্রমণের অভিযোগ উঠছে তৃণমূল ও বিজেপি উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী এখনও রাজ্যে মোতায়েন রয়েছে। প্রশাসন বারবার শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। সালাউদ্দিন সর্দার সহ জড়িতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, “আমরা কোনও রাজনৈতিক দলকে নিশানা করছি না। আইন অনুযায়ী যারা অবৈধ অস্ত্র রাখবে, তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাই আমাদের প্রথম লক্ষ্য।”




















