নন্দীগ্রাম: ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার শুরু করতেই নন্দীগ্রামে (Nandigram) আবেগের জোয়ার তুললেন বিজেপি প্রার্থী ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। জমি আন্দোলনের ভূমি নন্দীগ্রামে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে পুষ্পবৃষ্টি ও কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ে ভাসলেন কাঁথির অধিকারি বাড়ির মেজ ছেলে। এদিন হরিপুর এলাকায় প্রচার শুরু করে একাধিক তৃণমূল কর্মীকে দলে স্বাগত জানালেন শুভেন্দু।
তৃণমূল ছাড়া কর্মীদের বিজেপিতে যোগ
প্রথম দিনের প্রচারে বয়াল-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান ঝুমা মান্না, প্রাক্তন উপ-প্রধান চন্দ্রকান্ত মণ্ডল, তৃণমূল কর্মী সেক সঞ্জয় রহমান এবং আলী আহমেদ লাল্টু-সহ একাধিক নেতা-কর্মী তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন শুভেন্দু অধিকারী। মেঘনাদ পাল-সহ অন্যান্য নেতার উপস্থিতিতে এই যোগদান অনুষ্ঠানকে অনেকে নন্দীগ্রামে তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষের প্রকাশ্য ছবি বলে মনে করছেন।
তৃণমূলের ইস্তেহার নিয়ে কটাক্ষ, শহীদ পরিবারের বঞ্চনার অভিযোগ
প্রচারে শুভেন্দু তীব্র আক্রমণ করেন তৃণমূলকে। তিনি বলেন, “তৃণমূলের ইস্তেহারে শুধু মিথ্যা ভরা। ১১ বছর ধরে যা বলে এসেছে, তার একটাও পূরণ হয়নি।” কলকাতায় তাপস রায়ের গাড়িতে হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটা তৃণমূলের গুন্ডারাজের নমুনা।”
নন্দীগ্রামের শহীদ পরিবারদের প্রতি বঞ্চনার অভিযোগ তুলে শুভেন্দু বলেন, “তৃণমূল প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যাঁরা শুরু থেকে ছিলেন, তাঁদেরও বাদ দিয়েছে। শহীদ পরিবারের প্রতি বঞ্চনা করেছে। এর উত্তর মা ফিরোজা বিবি বা তাঁর ছেলে দেবেন।” তিনি আরও বলেন, “বাংলায় আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে শুধু ওপরের পদে বদল করলে হবে না, একাধিক থানার ওসি-আইসি-দের বদল করতে হবে।”
নন্দীগ্রামে প্রচারের প্রথম দিনের তাৎপর্য
নন্দীগ্রাম রাজ্যের সবচেয়ে হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্রগুলির মধ্যে অন্যতম। ২০০৭ সালের জমি আন্দোলনের ভূমিতে শুভেন্দু অধিকারীর প্রচার শুরু হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে এটাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে দেখা হচ্ছে। ভবানীপুরের পর নন্দীগ্রামে প্রথম দিনেই এমন আবেগঘন স্বাগত ও তৃণমূল থেকে যোগদানের ঘটনা বিজেপির জন্য মনোবল বাড়ানোর মতো।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আলোচনা, এবার নন্দীগ্রামে লড়াই আরও জমে উঠবে। তৃণমূলের দিক থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবে দলের অন্দরে এই যোগদান নিয়ে চাপা অসন্তোষ ছড়াতে পারে।




















