নয়াদিল্লি: মিজোরামের রাজ্যপাল জেনারেল (Mizoram) বিজয় কুমার সিংহ প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন যে, রাজ্য সরকার মাদক পাচার রোধে বিপুল প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। গত বছরের এপ্রিল মাস থেকে এখন পর্যন্ত মিজোরাম পুলিশ ও এক্সাইজ অ্যান্ড নারকোটিক্স বিভাগ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ও সংশ্লিষ্ট পদার্থ উদ্ধার করেছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮১৬ কোটি টাকা।
এই তথ্য তিনি আইজলের লাম্মুয়াল ময়দানে ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের ভাষণে জানান।রাজ্যপাল বলেন, মিজোরামের সীমান্তবর্তী অবস্থানের কারণে মাদক পাচার একটি গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে মায়ানমার সীমান্ত দিয়ে মেথামফেটামিন (ক্রিস্টাল মেথ), হেরোইন ও অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য ঢুকছে। তবে রাজ্য সরকার এবং নিরাপত্তা বাহিনী এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
কলকাতাসহ বাংলায় শীতের বিদায়, বাড়ছে তাপমাত্রা
২০২৫-২৬ অর্থবছরে এক্সাইজ অ্যান্ড নারকোটিক্স বিভাগের তৎপরতায় ২১৭টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং ৩৩৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার হয়েছে, যা রাজ্যের যুবসমাজকে নেশার ছোবল থেকে বাঁচাতে সাহায্য করছে।এই উদ্ধারের মধ্যে মেথামফেটামিন ট্যাবলেট, হেরোইন, গাঁজা এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রিত পদার্থ রয়েছে।
রাজ্যপালের ভাষণ অনুযায়ী, এই মূল্যায়ন মাদকের আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে। মিজোরামের মতো ছোট রাজ্যে এত বড় পরিমাণ উদ্ধার সত্যিই উল্লেখযোগ্য। গত কয়েক মাসে একাধিক বড় অভিযানে অসম রাইফেলস, মিজোরাম পুলিশ এবং অন্যান্য বাহিনী যৌথভাবে কাজ করেছে। উদাহরণস্বরূপ, সাম্প্রতিক কয়েকটি অভিযানে কয়েক কোটি টাকার মাদক বাজেয়াপ্ত হয়েছে, যার মধ্যে মায়ানমার থেকে আসা মালপত্রও রয়েছে।
রাজ্যপাল আরও জানান যে, মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকদেরও গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধ মদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ৪২টি অস্ত্র উদ্ধার এবং বার্মিজ অ্যারেকা নাটসের মতো চোরাচালানি পণ্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যার মূল্য প্রায় ১৭.৮ কোটি টাকা। এসব পদক্ষেপ রাজ্যে সংগঠিত অপরাধ ও মাদক নেটওয়ার্ককে দুর্বল করছে।
মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী ও সরকারও এই প্রচেষ্টায় সক্রিয়। সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে, গত সেপ্টেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত বিশেষ অভিযানে ১৯৬.৪২ কোটি টাকার মাদক উদ্ধার হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় রাজ্যপালের উল্লেখিত ৮১৬ কোটি টাকার পরিসংখ্যান সামগ্রিক প্রচেষ্টার ফল। রাজ্য সরকার যুবকদের মাদকমুক্ত রাখতে সচেতনতা কর্মসূচি, পুনর্বাসন এবং কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে।
এই সাফল্য সত্ত্বেও চ্যালেঞ্জ কম নয়। মায়ানমার সীমান্তের দৈর্ঘ্য এবং জঙ্গলাকীর্ণ এলাকায় পাচারকারীরা নতুন নতুন পথ ব্যবহার করছে। তবে রাজ্যপালের কথায় স্পষ্ট যে, মিজোরাম সরকার এবং নিরাপত্তা বাহিনী অটল। প্রজাতন্ত্র দিবসের মঞ্চ থেকে এই ঘোষণা রাজ্যবাসীকে আশা দিয়েছে যে, মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয় নিশ্চিত।




















