মঙ্গল গ্রহের গর্ভে সন্ধান মিলল ৪০০ কোটি বছর পুরনো রহস্যময় ‘বস্তু’র

একবার ভাবুন তো, আমাদের পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের গ্রহ মঙ্গল (Mars) আগে কখনোই আজকের মতো এতটা নীরব ছিল না, কিন্তু তখন সেখানে নদীর কলকল শব্দ ছিল এবং বিশাল হ্রদগুলোতে ...

By Kolkata24x7 Team

Published:

Follow Us
Mars

একবার ভাবুন তো, আমাদের পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের গ্রহ মঙ্গল (Mars) আগে কখনোই আজকের মতো এতটা নীরব ছিল না, কিন্তু তখন সেখানে নদীর কলকল শব্দ ছিল এবং বিশাল হ্রদগুলোতে ঢেউ উঠত। এটা আপনার কাছে আশ্চর্যজনক মনে হতে পারে, কিন্তু কোটি কোটি বছর আগের এই দৃশ্যটি এখন বিজ্ঞানীদের কাছে সত্য বলে প্রমাণ হচ্ছে। রিমফ্যাক্স প্রযুক্তি ব্যবহার করে নাসার পারসিভারেন্স রোভার মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠের নিচে চাপা পড়া এমন কিছু স্তর আবিষ্কার করেছে, যা লক্ষ লক্ষ বছর আগের একটি জল ব্যবস্থার সাক্ষ্য বহন করে। ৩.৭ থেকে ৪.২ বিলিয়ন বছর পুরনো এই চাপা পড়া ব-দ্বীপটির আবিষ্কার বিজ্ঞানীদেরকে সেই জৈবচিহ্নের আরও কাছে নিয়ে এসেছে, যা তাঁরা কয়েক দশক ধরে অনুসন্ধান করে আসছিলেন।

নাসার পারসিভারেন্স রোভার মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠের নিচে একটি প্রাচীন নদী ব-দ্বীপের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করেছে। এই আবিষ্কারটি আরও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি প্রায় ৪০০ কোটি বছর পুরোনো, যা মঙ্গল গ্রহে জলের অস্তিত্বের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

   

রহস্যটি মাটির ১১৫ ফুট নিচে লুকানো ছিল
নাসার রোভারে স্থাপিত রিমফ্যাক্স (RIMFAX) নামক একটি গ্রাউন্ড-পেনিট্রেটিং রাডারের সাহায্যে এই আবিষ্কারটি করা হয়। গবেষকদের মতে, রোভারটি যখন জেজেরো ক্রেটারের ৬.১ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে প্রদক্ষিণ করছিল, তখন রাডারটি ভূপৃষ্ঠের ১১৫ ফুট (প্রায় ৩৫ মিটার) নিচে কিছু স্বতন্ত্র ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করে। পলি ও ক্ষয়ের এই স্তরগুলো পৃথিবীতে নদী ও হ্রদের সঙ্গমস্থলে গঠিত স্তরের অনুরূপ।

প্রাণের অস্তিত্বের আশা বাড়ছে
বিজ্ঞানীদের অনুমান, এই ব-দ্বীপটির বয়স প্রায় ৩.৭ থেকে ৪.২ বিলিয়ন বছর। ইউসিএলএ-র গ্রহ বিজ্ঞানী এমিলি কার্ডারেলির মতে, এই আবিষ্কার থেকে বোঝা যায় যে জেজেরো ক্রেটার একসময় জলে পূর্ণ ছিল। যেখানে জল আছে, সেখানে প্রাণের সম্ভাবনাও আছে। এই কারণেই বিজ্ঞানীরা আশা করেন যে, এই প্রাচীন স্তরগুলোর নিচে জৈবচিহ্ন অর্থাৎ প্রাচীন অণুজীবও চাপা পড়ে থাকতে পারে।

মঙ্গল গ্রহের ইতিহাস
যদিও আজ মঙ্গল গ্রহকে ঠান্ডা এবং জনশূন্য মনে হয়, কোটি কোটি বছর আগে এর বায়ুমণ্ডল এমন ছিল না; বরং তা ছিল ঘন এবং উষ্ণ, যার ফলে এর পৃষ্ঠে জলের প্রবাহ সম্ভব হয়েছিল। গত বছরও পারসিভারেন্স একটি পাথরের নমুনা নিয়েছিল, যেটিতে সম্ভাব্য জৈবচিহ্নও পাওয়া গিয়েছিল।

নাসার এই আবিষ্কার এটাও প্রমাণ করেছে যে, একসময় মঙ্গল গ্রহে নদী ও হ্রদও ছিল। এখন বিজ্ঞানীরা এই তথ্য ব্যবহার করে বুঝবেন, কীভাবে মঙ্গল গ্রহ একটি বাসযোগ্য গ্রহ থেকে এক ঊষর মরুভূমিতে পরিণত হলো।

Kolkata24x7 Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি kolkata24x7 Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।

Follow on Google