মনিপুরে: মণিপুরে ভারতীয় সেনার হাতে বন্দি ৫ ভিনদেশি জঙ্গি। (Manipur foreign militants)রাজ্যের অশান্ত পরিস্থিতিতে নতুন করে উদ্বেগের ঝড় তুলেছে এই ঘটনা। মণিপুর ইন্ডিজেনাস প্রোটেকশন আর্মি (এমআইপিএ) বা স্থানীয় সুরক্ষা বাহিনীর সহযোগিতায় ভারতীয় সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী জীবিত অবস্থায় ধরে ফেলেছে পাঁচজন বিদেশি অনুপ্রবেশকারী জঙ্গিকে। অভিযোগ উঠেছে, এরা চিন-কুকি সম্প্রদায়ভুক্ত নারকো-টেররিস্ট, যারা মায়ানমার থেকে অনুপ্রবেশ করে মণিপুরের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে জড়িত।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হল, এই জঙ্গিরা নাকি সাম্প্রতিক ত্রংলাওবি রকেট হামলার সঙ্গে জড়িত। গত ৭ এপ্রিল বিষ্ণুপুর জেলার মৈরাং ত্রংলাওবি আওয়াং লেইকাই গ্রামে ভোররাতে একটি রকেট বা প্রজেক্টাইল হামলায় ঘুমন্ত অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছে দুটি নিরীহ শিশু পাঁচ বছরের একটি ছেলে ও মাত্র পাঁচ মাসের একটি কন্যা শিশু। তাদের মা গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আরও দেখুনঃ RCB vs GT: মহারণে বিরাট-গিল, শেষ ম্যাচের ক্ষত ভুলে কে কামব্যাক করবে?
শিশুদের বাবা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ/সিআইএসএফ) জওয়ান, যিনি তখন বিহারে কর্মরত ছিলেন। মা একজন নার্স, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মণিপুরে এসেছিলেন। এই নৃশংস হামলার পর পুরো রাজ্যে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। প্রতিবাদে মিছিল, মোমবাতি মিছিল ও অবরোধ চলছে।নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, ধৃত পাঁচজনের কাছ থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও নারকোটিক্স উদ্ধার হয়েছে। এরা মায়ানমার সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশ করেছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
মণিপুরের দীর্ঘদিনের জাতিগত সংঘাতে (মেইতেই-কুকি) চিন-কুকি গোষ্ঠীর সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ‘নারকো-টেররিস্ট’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। অভিযোগ, তারা পপি চাষ, মাদক চোরাচালান ও অস্ত্রের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এই অনুপ্রবেশকারীরা স্থানীয় কিছু গোষ্ঠীর সঙ্গে মিলে উপত্যকা ও পাহাড়ি এলাকায় হামলা চালাচ্ছে। ত্রংলাওবি হামলায় প্রজেক্টাইলটি খুব কাছ থেকে ছোড়া হয়েছে বলে ফরেনসিক রিপোর্টে উঠে এসেছে, যা স্থানীয় সহযোগিতার ইঙ্গিত দেয়।




















