ফের সাম্প্রদায়িক হিংসায় উত্তপ্ত মণিপুর

মণিপুরে ফের উত্তপ্ত পরিস্থিতি। দীর্ঘদিনের অশান্তির পর যাঁরা ঘরে ফিরেছিলেন, (Manipur Bishnupur Kuki Attack)তাঁদের কপালে আবারও আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তা। মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, মণিপুরের বিষ্ণুপুর জেলার তোরবুং এবং ফৌগাকচাও ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
manipur-bishnupur-tension-kuki-militant-attack

মণিপুরে ফের উত্তপ্ত পরিস্থিতি। দীর্ঘদিনের অশান্তির পর যাঁরা ঘরে ফিরেছিলেন, (Manipur Bishnupur Kuki Attack)তাঁদের কপালে আবারও আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তা। মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, মণিপুরের বিষ্ণুপুর জেলার তোরবুং এবং ফৌগাকচাও ইখাই গ্রামে সন্দেহভাজন কুকি জঙ্গিদের বোমা বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নতুন করে হিংসার ঘটনায় ফের প্রাণভয়ে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

এই দুই গ্রাম বিষ্ণুপুর ও চুরাচাঁদপুর জেলার সংযোগস্থলের এক সংবেদনশীল প্রান্তিক এলাকায় অবস্থিত। দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে চলা জাতিগত সংঘর্ষের কারণে এখানকার বহু বাসিন্দা ঘরছাড়া হয়েছিলেন। সম্প্রতি পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় তাঁরা নিজেদের বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু ফের এই হামলার জেরে সেই আশার আলো নিভে যেতে বসেছে।

   

‘নিষ্পাপ শিশুদের রক্তে হাত রাঙিয়ে ছিলেন!’ বিস্ফোরক পাক সেনাকর্মী

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে আচমকা বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। এর পরেই শুরু হয় গুলির শব্দ। আতঙ্কে ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটেন গ্রামবাসীরা। অনেকেই দাবি করেছেন, হামলাকারীরা পাহাড়ি এলাকা থেকে লক্ষ্য করে গ্রাম লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়। যদিও সরকারি সূত্রে এখনও হতাহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো হয়নি।

নতুন করে হিংসার খবর পাওয়া মাত্রই প্রশাসনের তরফে দ্রুত অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের যৌথ টহল শুরু হয়েছে এলাকায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ড্রোন নজরদারি এবং অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানো হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, “এলাকায় শান্তি বজায় রাখাই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

তবে গ্রামবাসীদের ক্ষোভ ও আতঙ্ক সহজে কাটছে না। বহু মানুষের অভিযোগ, এত বছর পর বাড়ি ফিরে আবারও যদি এভাবে হামলার মুখে পড়তে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? এক বাসিন্দার কথায়, “আমরা ভেবেছিলাম পরিস্থিতি একটু শান্ত হয়েছে। ঘরদোর ঠিক করে নতুন করে জীবন শুরু করব। কিন্তু ফের সেই ভয়াবহ দিনগুলো ফিরে এল।”

মণিপুরে গত কয়েক বছর ধরে চলা সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ রাজ্যের সামাজিক ও মানবিক পরিস্থিতিকে গভীর সংকটে ফেলেছে। হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, বহু পরিবার এখনও ত্রাণ শিবিরে দিন কাটাচ্ছেন। সরকার একাধিকবার শান্তি ফেরানোর আশ্বাস দিলেও, মাঝেমধ্যেই এই ধরনের হামলা সেই প্রচেষ্টাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষ্ণুপুর-চুরাচাঁদপুর সীমান্ত এলাকা অত্যন্ত স্পর্শকাতর। পাহাড় ও সমতলের সংযোগস্থল হওয়ায় এখানে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ সব সময়ই বেশি। সামান্য উত্তেজনাও বড় আকার নিতে পারে। তাই শুধু সামরিক বা পুলিশি ব্যবস্থা নয়, দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও সামাজিক সমাধান জরুরি বলেই মত তাঁদের।

এই ঘটনার পর রাজ্য প্রশাসন ও কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলির দাবি, শুধু বাহিনী মোতায়েন করলেই চলবে না, বাস্তুচ্যুত মানুষদের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের স্থায়ী পরিকল্পনা দরকার। নচেৎ মণিপুরে শান্তি ফেরানো কেবল কাগজে-কলমেই থেকে যাবে। সব মিলিয়ে, তোরবুং ও ফৌগাকচাও ইখাইয়ে ফের হিংসা প্রমাণ করে দিল মণিপুর এখনও আগুনের উপর বসে আছে। সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন, কবে তারা নিশ্চিন্তে নিজের ঘরে ফিরতে পারবে?

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google