ময়নায় লক্ষীর ভান্ডার চেয়ে জনস্বার্থ মামলা হাইকোর্টে

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ (Lakshmir Bhandar)সেই প্রকল্পই এবার রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে। পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না বিধানসভা এলাকার বাগচা ও গজিনা গ্রাম পঞ্চায়েতে গত ছ’মাস ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
lakshmir-bhandar-pil-mayna-east-midnapore

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ (Lakshmir Bhandar)সেই প্রকল্পই এবার রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে। পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না বিধানসভা এলাকার বাগচা ও গজিনা গ্রাম পঞ্চায়েতে গত ছ’মাস ধরে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা না পাওয়ার অভিযোগে সরব হলেন হাজার হাজার মহিলা। বিষয়টি এবার গড়াল কলকাতা হাইকোর্টে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই দুই গ্রাম পঞ্চায়েত মিলিয়ে ৭ হাজারের বেশি, বিজেপির দাবি অনুযায়ী প্রায় ১২ হাজার মহিলা উপভোক্তা গত ছ’মাস ধরে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা পাচ্ছেন না। এই নিয়ে ক্ষোভ এতটাই চরমে পৌঁছেছে যে, বাগচার স্থানীয় বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্য সুনীতা মণ্ডল সাউ (মিতা মণ্ডল সাউ নামেও পরিচিত) বাধ্য হয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করেন।

   

জয়ন্তী পাহাড়ে গ্রেফতার ১৮ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী

অভিযোগকারীদের বক্তব্য, বাগচা ও গজিনা এই দুই গ্রাম পঞ্চায়েতই বর্তমানে বিজেপির দখলে। সেই কারণেই নাকি পরিকল্পিতভাবে এই এলাকার মহিলাদের লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা আটকে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, বিজেপি সমর্থক হওয়ার ‘শাস্তি’ হিসেবেই সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

এই অভিযোগে আগেও উত্তাল হয়েছিল ময়না। কয়েক মাস আগে ক্ষুব্ধ মহিলারা ময়না বিডিও অফিসে ডেপুটেশন দেন। সেই আন্দোলনের খবর সম্প্রচারিত হয়েছিল কলকাতা টিভির পর্দায়। কিন্তু তাতেও সমস্যার কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি।

হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্য মিতা মণ্ডল সাউ স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করেছেন, “রাজ্য সরকার অনৈতিকভাবে লক্ষ্মীর ভান্ডার বন্ধ করেছে। শুধুমাত্র বিজেপি করার কারণে ১২ হাজার মহিলার ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ছ’মাস ধরে তাঁরা এক টাকাও পাননি।” মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, শুধু ভাতা বন্ধ নয় বিজেপি সমর্থক পরিবারগুলির পুরুষ সদস্যদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পাঠানো হচ্ছে, যাতে রাজনৈতিকভাবে চাপ সৃষ্টি করা যায়।

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ময়না পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শেখ শাহাজান আলী জানান, তিনি নিজেও বিষয়টি নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন এবং রাজ্য সরকারকে বারবার জানাচ্ছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, “লক্ষ্মীর ভান্ডার আটকে রয়েছে মূলত পোর্টালের কিছু কারিগরি সমস্যার কারণে।”

তবে এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ বিজেপি। জেলা পরিষদ সদস্য ও বিজেপি নেতা উত্তম সিং বলেন,“রাজ্য সরকার জানুয়ারি ১০ তারিখ পর্যন্ত সময় চেয়েছিল। সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও কোনও টাকা মেলেনি। তাই বাধ্য হয়েই জনস্বার্থ মামলা করা হয়েছে।”

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন গোটা ময়না এলাকায় একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে ‘কবে মিলবে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা?’যে প্রকল্পকে রাজ্য সরকার নারী ক্ষমতায়নের বড় অস্ত্র হিসেবে তুলে ধরে, সেই প্রকল্পই যদি রাজনৈতিক রং দেখে বণ্টিত হয় তাহলে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে। এখন সকলের নজর হাইকোর্টের দিকে। আদালত কী নির্দেশ দেয়, তার উপরই নির্ভর করছে হাজার হাজার মহিলার ভবিষ্যৎ। লক্ষ্মীর ভান্ডার কি ফের চালু হবে, নাকি এই বিতর্ক আরও রাজনৈতিক রূপ নেবে সেটাই এখন দেখার।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google