কলকাতা মেট্রোর ইতিহাসে নতুন মাইলফলক! ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল স্টেশনে টিবিএম ‘দুর্গা’র সফল ব্রেকথ্রু

কলকাতা: শহরের বুকে চলছে মেট্রো সম্প্রসারণের দ্রুতগতির কাজ (Metro)। আর আজ সেই কাজে এসেছে এক উল্লেখযোগ্য সাফল্য। নির্মাণাধীন ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল মেট্রো স্টেশনে টানেল বোরিং মেশিন…

victoria-memorial-metro-breakthrough

কলকাতা: শহরের বুকে চলছে মেট্রো সম্প্রসারণের দ্রুতগতির কাজ (Metro)। আর আজ সেই কাজে এসেছে এক উল্লেখযোগ্য সাফল্য। নির্মাণাধীন ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল মেট্রো স্টেশনে টানেল বোরিং মেশিন (TBM) ‘দুর্গা’ সফলভাবে ব্রেকথ্রু অর্জন করেছে। খিদিরপুর থেকে শুরু হয়ে ১.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ টানেল খননের কাজ সুসম্পন্ন করে মেশিনটি আজ ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল স্টেশনে পৌঁছেছে।

এই সাফল্য কলকাতা মেট্রো প্রকল্পের জন্য এক বড় অর্জন।ঠিক এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ১০ জুলাই টিবিএম ‘দুর্গা’ টানেল খননের কাজ শুরু করেছিল। এক বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমের পর আজ সেই মেশিন তার লক্ষ্যে পৌঁছেছে। প্রকৌশলীদের মতে, এই সময়ের মধ্যে মেশিনটি বিভিন্ন প্রতিকূলতা সামলে এগিয়েছে। কলকাতার নরম মাটি, জলজমি এবং শহুরে এলাকার সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কাজ চালিয়ে যাওয়া ছিল চ্যালেঞ্জিং।

আরও দেখুনঃ চলছিল পাচার! বিজেপি নেত্রীর হস্তক্ষেপে ইসলামপুরের যৌন পল্লী থেকে উদ্ধার ৪৪ নাবালিকা

তবু দুর্গা তার নামের সার্থকতা প্রমাণ করেছে।এই টানেলটি কলকাতা মেট্রোর পার্পল লাইনের (জোকা-এসপ্ল্যানেড করিডোর) অংশ। বর্তমানে এই লাইনের জোকা থেকে মাঝেরহাট পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার এলিভেটেড অংশে ট্রেন চলাচল করছে। যাত্রীরা ইতিমধ্যেই এই অংশে স্বস্তির সঙ্গে যাতায়াত করছেন। ভূগর্ভস্থ অংশের কাজ সম্পূর্ণ হলে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত সংযোগ স্থাপিত হবে, যা শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।

টিবিএম ‘দুর্গা’র এই সাফল্যের পর এখন পরবর্তী পদক্ষেপ শুরু হবে। মেশিনটিকে খুলে সার্ভিসিং করে আবার চালু করা হবে। এবার এটি ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল থেকে পার্ক স্ট্রিট পর্যন্ত প্রায় ৯৫০ মিটার টানেল খনন করবে। অন্যদিকে, এর সহোদর মেশিন টিবিএম ‘দিব্যা’ সমান্তরাল টানেল খননের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দুই মেশিনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় পুরো করিডোরের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে।কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা এই অর্জনে উচ্ছ্বসিত।

আরও দেখুনঃ টানা বৃষ্টিতে ভাসল কলকাতা, জলমগ্ন রাস্তায় নাকাল নিত্যযাত্রীরা! চরম যানজট শহরজুড়ে

একজন সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার বলেন, “এক বছরে ১.৭ কিলোমিটার টানেল খনন একটি বড় সাফল্য। আমরা পরিবেশ সুরক্ষা ও নিরাপত্তার সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে কাজ করছি। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের মতো ঐতিহাসিক স্থানের কাছাকাছি কাজ করতে গিয়ে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।”

আরও দেখুনঃ