কলকাতার তারামণ্ডলের পাশের ক্যাথিড্রাল রোডে ২১ জুলাই (21 july) উপলক্ষে তৃণমূল কংগ্রেসের বার্ষিক শহিদ সমাবেশকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহের মধ্যেই দলের প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদারকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের অভিযোগ, সমাবেশে যোগ দিতে রওনা হওয়ার আগেই তাঁকে অন্যায়ভাবে আটক করেছে চুঁচুড়া থানার পুলিশ। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন এবং জল্পনা তৈরি হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, সকালে অসিত মজুমদার কলকাতায় ২১ জুলাইয়ের সভায় যোগ দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেই সময় চুঁচুড়া থানার পুলিশের একটি দল তাঁর বাড়িতে পৌঁছে তাঁকে থানায় নিয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে থানায় বসিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ। দলের কর্মী-সমর্থকদের বক্তব্য, এর ফলে তিনি নির্ধারিত সময়ে সভায় যোগ দিতে পারেননি। তাঁদের মতে, এই পদক্ষেপের পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে এবং তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে সমাবেশে যাওয়া থেকে বিরত রাখতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
চুঁচুড়ার কোদালিয়া (21 july) এলাকার যুব তৃণমূল সভাপতি পবিত্র মিস্ত্রি এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, অসিত মজুমদারের নেতৃত্বে এলাকার বহু কর্মী ২১ জুলাইয়ের সমাবেশে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। সেই কারণেই প্রশাসন তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে দাবি করেন তিনি। পবিত্রর বক্তব্য, কোনও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং দলের নেতাকর্মীদের তাঁর সঙ্গে দেখা করতেও দেওয়া হয়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ সমাবেশে যোগ দিতে রওনা হওয়ায় বিরোধী পক্ষ আতঙ্কিত হয়ে এ ধরনের পদক্ষেপ করেছে।
অন্যদিকে, পুলিশের একটি সূত্র থেকে ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। সেই সূত্রের দাবি, সম্প্রতি এক ব্যক্তি সিবিআই আধিকারিক পরিচয় দিয়ে অসিত মজুমদারের বাড়িতে গিয়ে ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করেছিলেন। এই ঘটনায় হাবরা এলাকা থেকে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে চুঁচুড়া থানার পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে এবং ধৃত ব্যক্তিকে শনাক্ত করার প্রয়োজনেই অসিত মজুমদারকে থানায় ডাকা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। অর্থাৎ, পুলিশের দাবি অনুযায়ী এটি তদন্ত-সংক্রান্ত একটি নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে। তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পুলিশের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।





