‘মেড ইন ইন্ডিয়া’-র জয়জয়কার! ভারতের ‘অস্ত্র’ ক্ষেপণাস্ত্র কিনবে সৌদি আরব-সহ বিশ্বের ছয়টি দেশ

Astra Missile: আর্মেনিয়া ও সৌদি আরবসহ ছয়টি দেশ ভারতের ‘অস্ত্র’ (Astra) আকাশ-থেকে-আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছে; পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সংঘাতের সময় এই ক্ষেপণাস্ত্রটি তার…

Astra Missile

Astra Missile: আর্মেনিয়া ও সৌদি আরবসহ ছয়টি দেশ ভারতের ‘অস্ত্র’ (Astra) আকাশ-থেকে-আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছে; পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সংঘাতের সময় এই ক্ষেপণাস্ত্রটি তার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি ইতিমধ্যেই সুখোই-৩০ এমকেআই (Su-30MKI) যুদ্ধবিমানের সাথে যুক্ত করা হয়েছে এবং এটি রফতানির বিষয়ে আলোচনা চলছে। এমন এক সময়ে এই ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির আলোচনা হচ্ছে, যখন ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানির পরিমাণ বেড়ে ২০২৬ অর্থবছরে ৩৮,৪২৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জাকার্তা সফরের সময় ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে ‘অস্ত্র’ (Astra) বিয়ন্ড-ভিজ্যুয়াল-রেঞ্জ (BVR) এয়ার-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত একটি নীতিগত সমঝোতা হয়েছে। এই সমঝোতা দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই অস্ত্র ব্যবস্থার প্রতি বিশ্বজুড়ে আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। *দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন*-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, আর্মেনিয়া ও সৌদি আরবসহ অন্তত ছয়টি দেশ এই ক্ষেপণাস্ত্র কেনার বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে।

‘অস্ত্র’ (Astra) ক্ষেপণাস্ত্রটি ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানির ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায় রচনা করতে চলেছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ও মূল্য নিয়ে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে আরও আলোচনা হবে। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে যে, ‘অস্ত্র’ ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের বিষয়ে আর্মেনিয়া ভারতের সঙ্গে আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। উল্লেখ্য, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ভারতীয় বিমানবাহিনীর সুখোই-৩০ এমকেআই (Su-30MKI) যুদ্ধবিমান থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সফলভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল।

আর্মেনিয়া ও সৌদি আরবের সাথে আলোচনা মূলত তাদের যুদ্ধবিমানে এই অস্ত্র ব্যবস্থাটি যুক্ত করার বিষয়কে কেন্দ্র করেই হচ্ছে। আর্মেনিয়া তাদের সু-৩০এসএম (Su-30SM) যুদ্ধবিমানে ‘অস্ত্র বিভিআর’ (Astra BVR) আকাশ-থেকে-আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা যুক্ত করার লক্ষ্যে ভারতের সাথে দ্রুতগতিতে আলোচনা শুরু করেছে। এই আলোচনাগুলো থেকে এটি স্পষ্ট যে, ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তান ও চিন যে বয়ান বা আখ্যান তৈরি করার চেষ্টা করেছিল, তা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।

আর্মেনিয়া ভারতীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের একটি প্রধান ক্রেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আকাশ (Akash) সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম, পিনাকা (Pinaka) মাল্টি-ব্যারেল রকেট লঞ্চার, স্বাতী (Swathi) ওয়েপন-লোকেটর রাডার, ১৫৫ মিমি অ্যাডভান্সড টোড আর্টিলারি গান সিস্টেম (হাউইটজার) এবং জেন (ZEN) অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম সংগ্রহের মাধ্যমে দেশটি ইতিমধ্যেই ভারতীয় অস্ত্রশস্ত্রের শীর্ষ ক্রেতা দেশগুলোর তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।

রয়্যাল সৌদি এয়ার ফোর্স বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমান পরিচালনা করে, যার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৫এস (F-15S), এফ-১৫এসএ (F-15SA) এবং ইউরোফাইটার টাইফুন। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই বিমানগুলোকে ‘অস্ত্র’ (Astra) ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সজ্জিত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। ‘অস্ত্র’ (Astra) ক্ষেপণাস্ত্রের নির্ভুলতা ও বিধ্বংসী ক্ষমতাকে এর শ্রেণির সেরা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর—যেমন চিনের পিএল-১৫ (PL-15) বিভিআর (BVR) আকাশ-থেকে-আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র—সাথে তুলনা করা যেতে পারে; অথচ বিশ্বজুড়ে একই শ্রেণির অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় ‘অস্ত্র’ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয়ী।

ডিআরডিও (DRDO) ‘অস্ত্র’ (Astra) এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল বা আকাশ-থেকে-আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে। অস্ত্র মিসাইলটি ডিআরডিও এবং ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড (বিডিএল)-এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে। অস্ত্র এমকে-১ (Astra Mk-1)-এর গতি ম্যাক ৪.৫ এবং এর পাল্লা ৮০ থেকে ১১০ কিলোমিটার। ভারত এর ‘এমকে-২’ (Mk-2) সংস্করণটিরও পরীক্ষা চালিয়েছে, যার পাল্লা ২০০ থেকে ২৪০ কিলোমিটার। র্যাকমজেট ইঞ্জিন-চালিত ‘এমকে-৩’ (Mk-3) সংস্করণটি বর্তমানে উন্নয়নের পর্যায়ে রয়েছে এবং এর সম্ভাব্য পাল্লা ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্যাপক চাহিদার কথা বিবেচনা করে সরকার এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর উৎপাদনে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে; কারণ এতদিন পর্যন্ত কেবল বিডিএল (BDL)-ই এগুলোর উৎপাদন করে আসছিল।