এক সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা ও দাবি তুলে ধরেন। তিনি জানান, রাজ্যের চলমান সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলি অব্যাহত থাকবে এবং সরকারি সুবিধা শুধুমাত্র প্রকৃত ও যোগ্য উপভোক্তাদের কাছেই পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে। একইসঙ্গে তিনি প্রশাসনিক আধিকারিকদের ভূয়সী প্রশংসা করে তাঁদের ধন্যবাদ জানান।
মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে পূর্বেই জানানো হয়েছিল যে, কন্যাশ্রী-সহ বর্তমানে চালু থাকা সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির কোনওটিই বন্ধ করা হবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মানুষের স্বার্থে যে সমস্ত প্রকল্প ইতিমধ্যেই কার্যকর রয়েছে, সেগুলি আগের মতোই চালু থাকবে। সরকারের লক্ষ্য হল সাধারণ মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনও যোগ্য ব্যক্তি যাতে সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা।
এদিন তিনি মহিলাদের জন্য একটি নতুন উদ্যোগের কথাও ঘোষণা করেন। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা নিশ্চিত করতে ‘পিঙ্ক কার্ড’ চালু করা হবে। তবে যাঁরা সরকারি চাকরিজীবী এবং নিজেরাই ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে চান, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা বাধ্যতামূলক হবে না। তিনি জানান, মূলত ছাত্রী, চা-বাগানের শ্রমিক, নিম্ন আয়ের মহিলা এবং যাঁদের প্রকৃত প্রয়োজন রয়েছে, তাঁদের হাতে এই বিশেষ কার্ড তুলে দেওয়া হবে। সরকারের আশা, এই উদ্যোগ মহিলাদের দৈনন্দিন যাতায়াতে আর্থিক স্বস্তি এনে দেবে।(Suvendu Adhikari)
প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী(Suvendu Adhikari) । তিনি জানান, সম্প্রতি ব্যবহৃত আবেদনপত্রটি মোট ১২ পাতার হলেও আবেদনকারীদের কার্যত মাত্র চার পাতা পূরণ করতে হয়েছে। তাঁর দাবি, একবার এই তথ্য জমা দেওয়ার পর আবেদনকারীদের ভবিষ্যতে রাজ্য বা কেন্দ্রের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের জন্য বারবার আলাদা ফর্ম পূরণ করার প্রয়োজন হবে না। একটি সমন্বিত তথ্যভাণ্ডারের মাধ্যমে সরকারি পরিষেবা আরও সহজ ও দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, যাঁদের নাম এসআইআর সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় ট্রাইব্যুনালের বিবেচনাধীন রয়েছে, তাঁদের বিষয়েও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও এই যোজনার আওতায় বিবেচনা করা হয়েছে, যাতে প্রকৃত যোগ্য আবেদনকারীরা শুধুমাত্র প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে বঞ্চিত না হন।
সরকারি পরিসংখ্যান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এই প্রকল্পের জন্য মোট প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল। যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রায় ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল করা হয়েছে, কারণ আবেদনকারীরা নির্ধারিত যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করতে পারেননি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই ১ কোটি ১০ লক্ষ উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরকারি অর্থ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাকি যোগ্য আবেদনকারীদের অ্যাকাউন্টেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পৌঁছে যাবে।
প্রশাসনিক আধিকারিকদের কাজের প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী(Suvendu Adhikari) বলেন, এত বিপুল সংখ্যক আবেদন অল্প সময়ের মধ্যে যাচাই করা এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করা সহজ কাজ ছিল না। তিনি আধিকারিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাঁদের নিষ্ঠা, স্বচ্ছতা এবং পরিশ্রমের ফলেই সরকারি অর্থ সঠিক মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তাঁর কথায়, সরকারের প্রতিটি টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং প্রকৃত প্রাপকদের কাছে সেই সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।
বক্তৃতার শেষে মুখ্যমন্ত্রী পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, সরকারের সমস্ত জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দক্ষতা বজায় রাখা হবে। কোনও অযোগ্য ব্যক্তি যাতে সরকারি সুবিধা না পান এবং যোগ্য মানুষ যাতে বঞ্চিত না হন, সেই লক্ষ্যেই প্রশাসন কাজ করে চলেছে। ভবিষ্যতেও মানুষের কল্যাণে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলিকে আরও কার্যকর এবং সহজলভ্য করার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।





