ভিএআর বিতর্কে মুখ খুলল ফিফা, তবু ক্ষোভ কমছে না জার্মান শিবিরে

প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে জার্মানির বাতিল হওয়া গোল নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে ফিফা। তবে সেই সিদ্ধান্তে এখনও ক্ষুব্ধ জার্মান ফুটবলার ও সমর্থকরা।

fifa-var-explanation-germany-paraguay-FIFA World Cup-controversy

বিট্টু দত্ত, কলকাতা ডেস্ক: বিশ্বকাপের (FIFA World Cup) শেষ ৩২-এর ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে জার্মানির বিদায়ের পরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি সিদ্ধান্ত। অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে জার্মানির জয়সূচক বলে মনে হওয়া গোলটি ভিএআরের সাহায্যে বাতিল করে দেন ম্যাচ রেফারি। সেই সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হলেও এবার বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার দাবি, ম্যাচে যা ঘটেছে তা সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই হয়েছে এবং টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই রেফারিদের এ ধরনের পরিস্থিতিতে কীভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতায় শেষ হওয়া ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ের ১০১ মিনিটে জার্মান ডিফেন্ডার জোনাথন তাহের হেডে বল জালে জড়ায়। জার্মান ফুটবলাররা তখন জয়ের উদযাপন শুরু করে দিলেও কয়েক মুহূর্ত পর ভিএআর পর্যালোচনার নির্দেশ দেন রেফারি জালাল জায়েদ। রিপ্লে দেখার পর তিনি গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন। ম্যাচ কর্মকর্তাদের মতে, গোল হওয়ার ঠিক আগে জার্মান ডিফেন্ডার ভ্লাদেমার অ্যান্তন প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলের চলার পথে বাধা সৃষ্টি করেছিলেন। সেই কারণেই গোলটি বৈধ হিসেবে গণ্য করা হয়নি।

   

এই সিদ্ধান্তের পরই জার্মান শিবিরে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। সমর্থক থেকে শুরু করে প্রাক্তন ফুটবলার—অনেকেই মনে করেন, গোল বাতিলের মতো স্পষ্ট কোনও কারণ সেখানে ছিল না। তবে ফিফার রেফারিং কমিটির প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা জানিয়েছেন, ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী কোনও খেলোয়াড় যদি বল খেলার উদ্দেশ্যে না গিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিপক্ষের গতিপথ আটকে দেন এবং তার স্বাভাবিক খেলায় বাধা সৃষ্টি করেন, তাহলে সেটি ফাউল হিসেবে বিবেচিত হবে। এমন পরিস্থিতিতে ভিএআরের হস্তক্ষেপও একেবারে নিয়মসিদ্ধ।

কলিনার বক্তব্য, বিশেষ করে গোলরক্ষকের বল ধরার বা বলের জন্য লড়াই করার সুযোগ নষ্ট হলে রেফারিদের আরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছিল। এই নির্দেশিকা শুধু ম্যাচ পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের নয়, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে অংশগ্রহণকারী সব দল, কোচ এবং ফুটবলারদের কাছেও পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। ফলে এই সিদ্ধান্তকে বিতর্কিত বলা হলেও নিয়মের বাইরে কিছু করা হয়নি বলেই দাবি ফিফার।

তবে এই ব্যাখ্যা কোনওভাবেই সন্তুষ্ট করতে পারেনি জার্মানির অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড থমাস মুলারকে। ম্যাচের পর তিনি সরাসরি ভিএআরের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, বারবার রিপ্লে দেখেও তিনি এমন কোনও ঘটনা খুঁজে পাননি, যা গোল বাতিল করার মতো গুরুতর। বরং তাঁর বিশ্বাস, প্যারাগুয়ের গোলরক্ষকই এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছেন।

মুলারের অভিযোগ, জার্মানি নিজেদের প্রতারিত মনে করছে। তাঁর ভাষায়, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে এমন সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন। পুরো টুর্নামেন্টে আরও অনেক কঠিন শারীরিক সংঘর্ষকে বৈধ ধরা হয়েছে, সেখানে এই ঘটনাকে ফাউল বলা তাঁর কাছে বিস্ময়কর। তিনি আরও বলেন, একজন ফুটবলার সারা জীবন বিশ্বকাপে দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখে। সেই মঞ্চে জয়সূচক গোল করার আনন্দ যদি প্রযুক্তির একটি সিদ্ধান্তে কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে তা মানসিকভাবে ভীষণ কষ্টের।

মুলারের আক্ষেপ আরও বেড়েছে কারণ গোলদাতা জোনাথন তাহ পরে টাইব্রেকারেও পেনাল্টি মিস করেন। তাঁর মতে, প্রযুক্তির উদ্দেশ্য খেলাকে আরও নির্ভুল করা হলেও এই ম্যাচে সেটি ফুটবলারদের ন্যায্য প্রাপ্য আনন্দ কেড়ে নিয়েছে।

শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় প্যারাগুয়ে। অন্যদিকে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয় অপ্রত্যাশিতভাবে। তবে ম্যাচের ফলের থেকেও বেশি আলোচনায় থেকে গেল ভিএআরের সেই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত, যা নিয়ে ফুটবল দুনিয়ায় বিতর্ক এখনও থামার কোনও লক্ষণ নেই।