বিধানসভা নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না-পাওয়ার পর সংগঠনকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর পথে হাঁটল তৃণমূল (TMC) কংগ্রেস। দীর্ঘদিন ধরেই দলের অন্দরে যে টানাপড়েন, মতবিরোধ এবং বিভিন্ন জেলায় নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ জমছিল, তার প্রেক্ষিতেই এবার বড়সড় সাংগঠনিক রদবদল করা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। মঙ্গলবার প্রকাশিত নতুন তালিকায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জেলা ও সাংগঠনিক ইউনিটে দায়িত্ব বদল করা হয়েছে। অভিজ্ঞ ও দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ নেতাদের উপরই ভরসা রেখে ফের সংগঠন শক্ত করার চেষ্টা শুরু করেছে শাসকদল।
দলীয় সূত্রের খবর, (TMC) সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফলের পরেই তৃণমূল নেতৃত্ব বুঝতে পারে যে নিচুস্তরে সংগঠন দুর্বল হয়েছে এবং বিভিন্ন জায়গায় কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে। সেই কারণেই জেলা স্তরে নেতৃত্বে পরিবর্তন এনে নতুন বার্তা দিতে চায় দল। এই রদবদলকে অনেকে শুধুমাত্র প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে না দেখে, বরং দলের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করার কৌশল হিসেবেই ব্যাখ্যা করছেন।
নতুন তালিকা অনুযায়ী, উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কুণাল ঘোষকে। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় মুখপাত্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা কুণাল এবার সংগঠন পরিচালনার দায়িত্বে আসায় রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। উত্তর কলকাতার মতো রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে তাঁর নিয়োগকে দলীয় কৌশলের অংশ বলেই মনে করছেন অনেকে।হাওড়ার রাজনীতিতে চমক, অরূপের জায়গায় রাজীব ব্যানার্জির উত্থান।
অন্যদিকে, দক্ষিণ কলকাতা সাংগঠনিক (TMC) জেলার সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে। এতদিন এই দায়িত্বে ছিলেন দেবাশিস কুমার। নেতৃত্ব বদলের এই সিদ্ধান্তকে স্থানীয় সংগঠনকে আরও গতিশীল করার প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে। দক্ষিণ কলকাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নতুন নেতৃত্ব আনার ফলে কর্মী স্তরে নতুন উদ্দীপনা আসবে বলে দলের একটি অংশের আশা।
আরও একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে শ্রীরামপুর-হুগলি সাংগঠনিক জেলায়। সেখানে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রবীণ নেতা অসিত মজুমদার। রাজনৈতিক মহলের মতে, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং সংগঠনের উপর তাঁর দখলকে কাজে লাগাতে চাইছে দল। উল্লেখ্য, গত নির্বাচনে ওই কেন্দ্রে অসিত মজুমদারের পরিবর্তে দেবাংশু ভট্টাচার্যকে প্রার্থী করা হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে তখন থেকেই দলের অভ্যন্তরে নানা আলোচনা শুরু হয়েছিল।



