কলকাতা: রাজ্য রাজনীতিতে ফের চাঞ্চল্যকর মোড়। পুরনো একটি মামলার জেরে খাস কলকাতা থেকে গ্রেফতার হলেন রাজ্যের প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী তথা তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা উদয়ন গুহ। বুধবার ফুলবাগান এলাকায় তাঁর নিজের ফ্ল্যাট থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করেছে কোচবিহার জেলা পুলিশের একটি বিশেষ দল।
বুধবার আচমকাই ফুলবাগানে তাঁর ফ্ল্যাটে হানা দেয় পুলিশ। সেখান থেকেই দিনহাটার প্রাক্তন বিধায়ককে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয় ফুলবাগান থানায়। পুলিশ সূত্রের খবর, আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উত্তরবঙ্গে নিয়ে যাওয়া হবে।
কী কী অভিযোগ প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, মূলত ভোট-পরবর্তী হিংসায় মদত দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগেই এই পদক্ষেপ করেছে পুলিশ। ২০২১ সালের বিধানসভা এবং সাম্প্রতিক ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর কোচবিহার জেলাজুড়ে যে ব্যাপক অশান্তি ছড়িয়েছিল, তাতে সরাসরি উদয়নের ইন্ধন ছিল বলে অভিযোগ। হিংসা ছড়ানোর পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগও পুলিশের খাতায় দায়ের করা রয়েছে।
গত ৪ মে দিনহাটা বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপির কাছে পরাজিত হওয়ার পর থেকেই কার্যত অন্তরালে চলে গিয়েছিলেন এই তৃণমূল নেতা। নিজের গড় কোচবিহার ছেড়ে তিনি কলকাতার এই ফ্ল্যাটেই থাকছিলেন। গত কয়েকদিন তাঁকে প্রকাশ্যেও দেখা যায়নি।
উদয়নের পালটা দাবি: ‘আগাম জামিন নেওয়া আছে’
গ্রেফতারির পর ফুলবাগান থানায় বসেই পুলিশের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন উদয়ন গুহ। তাঁর স্পষ্ট দাবি, সম্পূর্ণ বেআইনি ও অনৈতিকভাবে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যে পুরনো মামলার ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে তুলে এনেছে, সেই মামলায় আদালত থেকে তাঁর আগেই আগাম জামিন (Anticipatory Bail) নেওয়া রয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী।
বিজেপির কড়া প্রতিক্রিয়া
উদয়নের গ্রেফতারির খবরে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত গেরুয়া শিবির। দিনহাটার বর্তমান বিজেপি বিধায়ক অজয় রায় এই পদক্ষেপকে ‘দেরিতে হলেও সঠিক সিদ্ধান্ত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “উদয়ন গুহকে অনেক আগেই গ্রেফতার করা উচিত ছিল। হারের পর ভয়ে উনি দিনহাটা ছেড়ে পালিয়েছিলেন।”
অজয় রায় প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে আরও বলেন, “আমাদের দলের কর্মী রতন বর্মণকে খুনের মামলা থেকে শুরু করে আবাস যোজনায় কাটমানি এবং বীজ দুর্নীতি, সব কিছুতেই ওঁর নাম জড়িয়ে। একুশের ভোট-পরবর্তী হিংসার পর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন যে রিপোর্ট দিয়েছিল, সেখানেও প্রথম সারিতে এই উদয়ন গুহর নাম জ্বলজ্বল করছিল। আইনের পথে ওঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।”



