সাধুদের ঘাড়ধাক্কা! ভবানীপুরে ইউনুস জমানা কটাক্ষ শুভেন্দুর

কলকাতা: ভবানীপুরে ইউনুস জমানা মনে করালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ভবানীপুরে কয়েকজন সনাতন ধর্মী সাধু বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধর্মের প্রচার করছিলেন। শুভেন্দু অধিকারী…

bhabanipur-monk-harassment-suvendu-adhikari-tmc-controversy

কলকাতা: ভবানীপুরে ইউনুস জমানা মনে করালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ভবানীপুরে কয়েকজন সনাতন ধর্মী সাধু বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধর্মের প্রচার করছিলেন। শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন তৃণমূল সমর্থকরা তাদের ঘেরাও করে এবং ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। এই ঘটনার ভিডিও তুলে ধরে তিনি বাংলাদেশের ইউনুস জমানা মনে করিয়ে দিয়েছেন।

ভোটের মুখে ভবানীপুরে এক ঘটনাকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন, সনাতন ধর্মের প্রচার করতে আসা কয়েকজন সাধুসন্তকে তৃণমূল সমর্থকরা অপমান করে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে এলাকা থেকে বের করে দিয়েছেন। এই ঘটনাকে সামনে এনে তিনি রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন এবং বাংলাদেশে ‘ইউনুস জমানা’র সঙ্গে তুলনা টেনেছেন।

   

অভিযোগ অনুযায়ী, ভবানীপুরের পদ্মপুকুর এলাকার একটি আশ্রমে কিছু সাধুসন্ত এসেছিলেন এবং তারা আশেপাশের এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে সনাতন ধর্মের প্রচার করছিলেন। সেই সময় স্থানীয় কিছু তৃণমূল সমর্থক তাদের বাধা দেয় এবং পরে ঘেরাও করে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সাধুদের সঙ্গে বচসা শুরু হয়। বিরোধী পক্ষের দাবি, এরপরই তাদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে আশ্রম থেকে বের করে দেওয়া হয়।

শুভেন্দু অধিকারী একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেছেন, ভবানীপুর বিধানসভার ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অসীম বসু তাঁর অনুগামীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। অভিযোগ, সেখানে গিয়ে তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা সাধুদের হুমকি দেন, তাদের পোশাকের কলার ধরে টানাটানি করেন এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। এমনকি সাধুদের ‘চোর’ বলেও অপমান করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাকে ঘিরে আরও গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। বিরোধী পক্ষের দাবি, আশ্রমের জল ও বিদ্যুৎ সংযোগও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়, যাতে সাধুসন্তরা সেখানে থাকতে না পারেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনাকে শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছেন না। তাঁর বক্তব্য, এটি রাজ্যে “তোষণের রাজনীতি”-র ফল এবং নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের তুষ্টির জন্য অন্য সম্প্রদায়ের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ভবানীপুরে সনাতন ধর্মের প্রচার করা কি তবে অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে? তাঁর দাবি, এই ধরনের ঘটনা রাজ্যের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর প্রশ্ন তুলে দেয়।

এছাড়াও তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে কটাক্ষ করে বলেছেন, “এই ধরনের ঘটনা আর বেশিদিন চলবে না। প্রতিটি অন্যায়ের হিসাব হবে।” তাঁর এই মন্তব্য নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, রাজ্যে হিন্দুদের উপর অত্যাচার বাড়ছে এবং এই বিষয়টি ভোটের ইস্যু হিসেবেও সামনে আনা হবে।