ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। এক সময়ের শক্তিশালী শাসকদলের অন্দরে যে অসন্তোষ দীর্ঘদিন ধরেই জমা হচ্ছিল, নির্বাচনী ফল প্রকাশের পর তা কার্যত প্রকাশ্যে চলে এসেছে। একের পর এক নেতা, বিধায়ক এবং সাংসদের দলত্যাগের ফলে তৃণমূল এখন একাধিক শিবিরে বিভক্ত বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি। কালীঘাট শিবির, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির এবং পৃথক রাজনৈতিক মঞ্চ তৈরি করা একদল প্রাক্তন সাংসদ ও নেতার অবস্থান সব মিলিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এখন আর গোপন নেই।
এই পরিস্থিতিতেই (Mamata Banerjee) ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। দলীয় কর্মসূচির আগে বিক্ষুব্ধ নেতাদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যাঁদের দল ছেড়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে, তাঁরা যেন ২১ জুলাইয়ের আগেই সেই সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর বক্তব্য, কেউ যদি বিজেপি, পুলিশ, আদালত, ইডি, সিবিআই বা অন্য কোনও তদন্তকারী সংস্থার চাপে দল ছাড়তে চান, তাহলে তা করার ক্ষেত্রে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। তবে দল ছাড়ার আগে যেন তৃণমূল কংগ্রেসের ভাবমূর্তি নষ্ট না করা হয়, সেই আবেদনও জানান তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে তাঁর ‘বালিশ’ মন্তব্য। যদিও তিনি কারও নাম নেননি, রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তাঁর এই কটাক্ষ ছিল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের উদ্দেশেই।বিভিন্ন শহিদ পরিবারের সদস্যদের ফোন করে অন্য কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে এবং তাঁদের বিজেপির দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এই অভিযোগের পরই তিনি বলেন, “বিজেপির স্পনসরড বালিশের দিকে যান, বালিশ পালিশ করতে যান। সেখানে নাকি অনেক টাকা উপহারও দেওয়া হবে।”
তসলিমার বঙ্গ আগমনে চটল তৃণমূলের মুসলিম লীগ! দোসর নৌশাদ
‘বালিশ’ প্রসঙ্গটি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবিরের একাধিক কর্মসূচিতে বালিশকে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দাবি। সেই কারণেই মমতার মন্তব্যকে অনেকেই প্রতীকী রাজনৈতিক আক্রমণ হিসেবে দেখছেন। তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি একদিকে দলত্যাগীদের কড়া বার্তা দিয়েছেন, অন্যদিকে দলীয় কর্মীদেরও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।





