কলকাতা: চরম অস্তিত্ব সঙ্কটের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। দল ভাঙার হিড়িকের মধ্যেই এবার এক বড় ধাক্কা। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা করলেন দক্ষিণ কলকাতা তৃণমূলের চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন মন্ত্রী মণীশ গুপ্ত। ৮৫ বছর বয়সে এসে সক্রিয় রাজনীতি থেকে তাঁর এই সরে যাওয়া শাসকদলের অন্দরে নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে। (manish gupta quits tmc)
কী কারণে দলত্যাগ? মণীশ গুপ্তের কথায়, “তৃণমূলে এলেও গত পাঁচ বছর আমাকে কার্যত বসিয়ে রাখা হয়েছিল। আমাকে সেভাবে ব্যবহার করা হয়নি। আক্ষেপ করব না, তবে অনেক কারণ তো রয়েইছে। একই সঙ্গে বয়স একটা বড় ফ্যাক্টর। ৮৫ বছর বয়স হল, তাই রাজনীতি আর করব না বলে ঠিক করেছি।” তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন, কোনও দলবদল করছেন না, সরাসরি রাজনীতি থেকেই সন্ন্যাস নিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার সময় মণীশ গুপ্ত রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব ছিলেন। সেই সময় পুলিশি গুলিচালনার ঘটনায় তাঁর নাম জড়িয়ে তুমুল বিতর্ক হয়েছিল। কিন্তু ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর নাটকীয়ভাবে তিনি তৃণমূলের ছাতার তলায় আসেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে বিধায়ক ও মন্ত্রীও করেছিলেন। তবে শেষ কয়েক বছরে দলের অন্দরে গুরুত্ব কমেছিল বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি।
এদিকে, রাজনীতির ময়দান ছাড়ার মুহূর্তে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মণীশ। তিনি বলেন, “বর্তমানে যিনি মুখ্যমন্ত্রী, শুভেন্দু অধিকারী, তাঁর মতো দক্ষ প্রশাসক বাংলা আগে পায়নি। যে দক্ষতায় তিনি কাজ সামলাচ্ছেন, তাতে বাংলার উন্নয়ন কেউ আটকাতে পারবে না।” ২১ জুলাইয়ের ঠিক প্রাক্কালে প্রবীণ এই নেতার ইস্তফা এবং বিরোধী শিবিরের মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে শাসকদল।




