হকারদের পাশে রাজ্য, পুজোর আগে বড় ঘোষণা

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হকার উচ্ছেদ নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত অনেকটাই কাটল মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে। আসন্ন দুর্গাপুজো…

Nabanna Directs Staff to Work on Holidays to Accelerate Administrative Operations

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হকার উচ্ছেদ নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত অনেকটাই কাটল মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে। আসন্ন দুর্গাপুজো পর্যন্ত রাজ্যের কোথাও হকার উচ্ছেদ করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি। আগামী অক্টোবর মাস পর্যন্ত উচ্ছেদ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তে স্বস্তি ফিরেছে লক্ষাধিক হকার ও তাঁদের পরিবারের মধ্যে।

নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই তথ্য জানান হকার্স জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটির রাজ্য সভাপতি অসিত সাহা। তিনি বলেন, রাজ্যজুড়ে হকারদের মধ্যে যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত দূর হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দিয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে উৎসবের মরশুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও হকারকে উচ্ছেদ করা হবে না। এই সিদ্ধান্ত শুধু হকারদের জন্য নয়, তাঁদের উপর নির্ভরশীল পরিবারগুলির কাছেও বড় স্বস্তির খবর।

   

বাংলার অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল হকার সম্প্রদায়। শহর থেকে গ্রাম— সর্বত্র হাজার হাজার মানুষ ফুটপাথ, রাস্তার ধারে কিংবা নির্দিষ্ট বাজার এলাকায় ছোট ছোট ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। অনেকেরই এটিই একমাত্র আয়ের উৎস। ফলে হঠাৎ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলে তাঁদের জীবিকা, পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। বিশেষ করে দুর্গাপুজোর আগে ব্যবসার এই সময়টিকে হকাররা বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মরশুম হিসেবে বিবেচনা করেন। এই সময়ে বিক্রি বাড়ে, যার উপর নির্ভর করে বছরের অনেকটা সময়ের সংসার চলে।

এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন হকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাঁদের বক্তব্য, উৎসবের আগে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাওয়ায় হাজার হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নতুন করে আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন। একই সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও মানবিক মনোভাবের পরিচয় মিলেছে বলে তাঁদের দাবি।

আরও পড়ুন: ‘তৃণমূল তৃণমূলকে ডিম ছুড়েছে আমরা কি করব!’ বিস্ফোরক শমীক

তবে আলোচনায় রেলের অধীনস্থ এলাকায় থাকা হকারদের বিষয়টিও উঠে আসে। অসিত সাহা জানান, রেলের জমি ও স্টেশনের আশপাশে থাকা হকারদের উচ্ছেদের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের আওতাধীন। তাই রাজ্য সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত। তবুও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন:‘মরা মাছের মত চোখওয়ালা মূর্তিমান শয়তান!’ জ্যোতি বসু নিয়ে বিস্ফোরক তথাগত

শুধু উচ্ছেদ স্থগিত রাখাই নয়, হকারদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। আগামী সপ্তাহেই পুর দপ্তরের সচিবের সঙ্গে হকার্স সংগঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেই বৈঠকে হকারদের পরিচয়পত্র প্রদান, বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ, পুনর্বাসনের রূপরেখা এবং ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। সংগঠনের আশা, এই বৈঠক থেকেই একটি সুসংহত ও বাস্তবসম্মত নীতির ভিত্তি তৈরি হবে।