মৃত্যু শংসাপত্র জট কাটাতে বড় পদক্ষেপ, বরো-স্তরে ১৬ রেজিস্ট্রার নিয়োগ করল KMC

কলকাতা: মৃত্যু শংসাপত্র (Death Certificate) ইস্যু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তৈরি হওয়া জট কাটাতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল কলকাতা পুরসভা (KMC)। মঙ্গলবার পুরসভার পক্ষ থেকে ১৬ জন…

kmc-appoints-16-registrars-to-clear-death-certificate-backlog

কলকাতা: মৃত্যু শংসাপত্র (Death Certificate) ইস্যু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তৈরি হওয়া জট কাটাতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল কলকাতা পুরসভা (KMC)। মঙ্গলবার পুরসভার পক্ষ থেকে ১৬ জন বরো-স্তরের আধিকারিককে রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁদের জন্ম ও মৃত্যু নথিভুক্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট শংসাপত্র ইস্যু করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি শহরের বিভিন্ন শ্মশানে কর্মরত সাব-রেজিস্ট্রারদের মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যু করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছিল। এরপর থেকেই বহু পরিবার নির্ধারিত সময়ে মৃত্যু শংসাপত্র না পাওয়ায় সমস্যায় পড়েন। শনিবার থেকে এই পরিষেবা কার্যত বন্ধ থাকায় উত্তরাধিকার, বিমা, পেনশন, ব্যাঙ্কিং ও সম্পত্তি সংক্রান্ত একাধিক আইনি প্রক্রিয়াও আটকে যায়।

Advertisements

Also Read | KMC এলাকায় মৃত্যু শংসাপত্র বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে শতাধিক পরিবার

নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, ১৩ জন এক্সিকিউটিভ হেলথ অফিসার, একজন ডেপুটি চিফ মিউনিসিপ্যাল হেলথ অফিসার এবং দু’জন মেডিক্যাল অফিসার-ইন-চার্জ-কে রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা নিজেদের এলাকায় জন্ম ও মৃত্যুর নথিভুক্তিকরণ, শারীরিক ও ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ, দেরিতে নথিভুক্তির আবেদন, সংশোধন ও বাতিলের আবেদন পর্যালোচনা এবং জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্রের প্রত্যয়িত কপি ইস্যু করতে পারবেন।

তবে KMC-র স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, নতুন রেজিস্ট্রারদের ডিজিটাল সিগনেচার এবং Janma-Mrityu Thathya সিভিল রেজিস্ট্রেশন পোর্টালে প্রয়োজনীয় লগইন ও আপলোডের অনুমতি দেওয়ার কিছু প্রযুক্তিগত কাজ এখনও বাকি রয়েছে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলেই বর্তমানের পাশাপাশি শনিবার থেকে আটকে থাকা সমস্ত মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যু করা শুরু হবে।

বর্তমানে মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসকের দেওয়া মেডিক্যাল ডেথ সার্টিফিকেট এবং মৃতের আধার কার্ড জমা দেওয়ার পর শুধুমাত্র একটি রসিদ পাচ্ছেন। কিন্তু এই রসিদের কোনও আইনি বৈধতা নেই। ফলে উত্তরাধিকার দাবি, বিমা, পেনশন, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত কাজ কিংবা সম্পত্তি হস্তান্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করা যাচ্ছে না।

এছাড়াও, বর্তমানে দাহ শংসাপত্র (Cremation Certificate)-ও ইস্যু করা হচ্ছে না। এর ফলে যাঁরা কলকাতার বাইরে থাকেন কিন্তু KMC এলাকার কোনও শ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন, তাঁরা নিজ নিজ এলাকার পুরসভা বা পঞ্চায়েত থেকে মৃত্যু শংসাপত্রের আবেদনও করতে পারছেন না।

এই সমস্যা শুরু হয় ২৫ জুলাই থেকে। অভিযোগ, ওই দিন থেকেই শহরের শ্মশানগুলিতে মৌখিক নির্দেশ পৌঁছায় যে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মৃত্যু শংসাপত্র ও দাহ শংসাপত্র ইস্যু করা যাবে না। এরপর থেকেই বহু পরিবার চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন।

দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দা অন্বেষা দত্ত জানান, তাঁর শাশুড়ির মৃত্যু রবিবার হয় এবং কেওড়াতলা মহাশ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। তাঁদের জানানো হয়েছিল, সাত দিনের মধ্যে এসএমএসের মাধ্যমে মৃত্যু শংসাপত্রের লিঙ্ক পাঠানো হবে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তা পাননি। তাঁর দাবি, এর আগে পরিবারের অন্য এক সদস্যের মৃত্যুর ক্ষেত্রে একই দিনেই শংসাপত্র হাতে পাওয়া গিয়েছিল। এবার কবে তা মিলবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তাঁরা।

Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা

Also Read |  পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব

Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা

Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন

Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের