দলের সব পদ ছাড়লেন ‘দিদির প্রিয়’ জ্যোতি

সময় যত এগোচ্ছে, ততই যেন রাজনৈতিকভাবে আরও একা হয়ে পড়ছেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের অন্দরমহলে একের পর এক পরিবর্তন, নেতাদের দূরত্ব বৃদ্ধি এবং…

সময় যত এগোচ্ছে, ততই যেন রাজনৈতিকভাবে আরও একা হয়ে পড়ছেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের অন্দরমহলে একের পর এক পরিবর্তন, নেতাদের দূরত্ব বৃদ্ধি এবং সাংগঠনিক স্তরে নানা টানাপোড়েনের মধ্যেই এবার বড় ধাক্কা এল জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের (Jyotipriya Mallick) সিদ্ধান্তে। দলের যাবতীয় সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, যিনি রাজনৈতিক মহলে ‘বালু’ নামেই বেশি পরিচিত।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, মাত্র কয়েকদিন আগেই তাঁকে দলের জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য করা হয়েছিল। গত শনিবার তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে জাতীয় কর্মসমিতির নতুন তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেই তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি ছিল তাঁর প্রতি দলের আস্থা ও গুরুত্বেরই প্রতিফলন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের এক সপ্তাহও কাটতে না কাটতেই দলের সমস্ত পদ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে।

   

১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক(Jyotipriya Mallick) । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন কংগ্রেস ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক দল গড়ার লড়াইয়ে নেমেছিলেন, তখন তাঁর অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোদ্ধাদের মধ্যে ছিলেন বালু। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দলের হয়ে নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। একাধিকবার বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি মন্ত্রিত্বের দায়িত্বও সামলেছেন দক্ষতার সঙ্গে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের প্রতি আস্থা রেখেছেন। রাজনৈতিক উত্থান-পতনের নানা সময়ে সেই সম্পর্কের দৃঢ়তা প্রকাশ্যে এসেছে। বিশেষ করে রেশন দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেলবন্দি হওয়ার পরও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। বিরোধীদের তীব্র আক্রমণের মুখেও তৃণমূল নেত্রী বারবার দাবি করেছেন, জ্যোতিপ্রিয়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।

এমনকি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে হাবড়ায় নির্বাচনী প্রচারে গিয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে জ্যোতিপ্রিয়ের প্রশংসা করেছিলেন। সভামঞ্চ থেকে তিনি বলেছিলেন, “আমার মন্ত্রিসভায় বালু সবথেকে ভালো কাজ করেছে।” রাজনৈতিক মহলে সেই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়েছিল। কারণ দুর্নীতির অভিযোগ এবং আইনি জটিলতার মধ্যেও নেত্রীর প্রকাশ্য সমর্থন স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে জ্যোতিপ্রিয় এখনও তাঁর আস্থাভাজনদের তালিকায় রয়েছেন।

শুধু প্রশংসাই নয়, সাম্প্রতিক নির্বাচনে তাঁকে আবারও প্রার্থী করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি তিনি। ভোটে পরাজয়ের পর থেকেই কার্যত জনসমক্ষে তাঁর উপস্থিতি অনেকটাই কমে যায়। দলের বড় কর্মসূচি কিংবা রাজনৈতিক মঞ্চে তাঁকে খুব একটা দেখা যায়নি। ফলে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল