কলকাতা: বহুল আলোচিত আরজি কর (vineet goyal)মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুন মামলার তদন্তে ফের গুরুত্বপূর্ণ মোড়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই এবার কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলকে তলব করেছে। তদন্তে গাফিলতি, তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণে ব্যর্থতা এবং ঘটনার প্রাথমিক পর্যায়ে তদন্ত পরিচালনা নিয়ে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাঁকে আগামী সপ্তাহে সিবিআই দফতরে হাজির হতে বলা হয়েছে। এই সমনের খবর সামনে আসতেই রাজ্যজুড়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, আরজি কর কাণ্ডের তদন্তে প্রাথমিক পর্যায়ের পুলিশি ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ঘটনাস্থলের তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং তদন্তের বিভিন্ন ধাপে কোনও অনিয়ম হয়েছিল কি না, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থা বিস্তারিত অনুসন্ধান চালাচ্ছে। সেই কারণেই প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলকে নির্দিষ্ট কিছু নথিপত্রসহ হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীরা তাঁর কাছ থেকে ঘটনার সময়কার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, তদন্তের অগ্রগতি এবং বিভিন্ন পুলিশি পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও দেখুনঃ তৃণমূল আমলে তলানিতে! পালাবদলের এক মাসেই বীরভূমের পাথর খনির রাজস্ব বাড়ল ৭০ কোটি
শুধু বিনীত গোয়েলই নন, এই মামলার সূত্রে কলকাতা পুলিশের আরও দুই প্রাক্তন শীর্ষ আধিকারিককেও জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে। প্রাক্তন ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তা এবং প্রাক্তন ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই সিবিআই দফতরে হাজির হয়েছেন। তদন্তকারী আধিকারিকরা তাঁদের কয়েক ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন এবং ঘটনার রাতের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য সংগ্রহ করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
আরজি কর কাণ্ডের তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকেই কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছিল। নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, ঘটনার তদন্তে স্বচ্ছতার অভাব ছিল এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সময়মতো প্রকাশ করা হয়নি। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিল। সেই আবহেই সিবিআই তদন্তের আওতায় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ঘটনার সময় বিনীত গোয়েল কলকাতা পুলিশের কমিশনার পদে দায়িত্বে ছিলেন। পরবর্তীতে বিভাগীয় তদন্তে গুরুতর গাফিলতির অভিযোগ সামনে আসার পর রাজ্য সরকার প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেয়। গত ১৫ মে তিন আইপিএস আধিকারিক বিনীত গোয়েল, অভিষেক গুপ্তা এবং ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কে সাময়িকভাবে বরখাস্ত বা সাসপেন্ড করা হয়। সরকারি সূত্রে দাবি করা হয়েছিল, তদন্ত পরিচালনার ক্ষেত্রে একাধিক অসঙ্গতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।



