বিট্টু দত্ত, কলকাতা: বাংলার টেবল টেনিসে ফের গর্বের মুহূর্ত। আসন্ন এশিয়ান গেমসের (Asian Games) জন্য ঘোষিত ভারতীয় মহিলা দলে জায়গা করে নিয়েছেন বাংলার দুই প্রতিভাবান প্যাডলার সুতীর্থা মুখোপাধ্যায় ও সিন্ড্রেলা দাস। আগামী ২০ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর জাপানের আইচি শহরের স্কাই হল টয়োটায় অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান গেমসের টেবল টেনিস প্রতিযোগিতা। সেখানে ভারতের জার্সিতে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন এই দুই বাঙালি কন্যা।
এশিয়ান গেমসের আগে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেখা যাবে তাঁদের। জুলাই মাসের শেষে অনুষ্ঠিত হতে চলা কমনওয়েলথ টেবল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপেও ভারতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন সুতীর্থা ও সিন্ড্রেলা। বুধবার ভারতীয় টেবল টেনিস ফেডারেশন দুই প্রতিযোগিতার জন্য দল ঘোষণা করতেই বাংলার ক্রীড়ামহলে খুশির হাওয়া বইতে শুরু করেছে।
মহিলা দলে সুতীর্থা ও সিন্ড্রেলার পাশাপাশি সুযোগ পেয়েছেন দেশের অন্যতম সেরা প্যাডলার শ্রীজা আকুলা, দিয়া চিতালে এবং যশস্বিনী ঘোরপরে। তবে সবচেয়ে বেশি চমক দিয়েছে মণিকা বাত্রার অনুপস্থিতি। দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় টেবল টেনিসের অন্যতম মুখ হলেও এবার তাঁকে মূল দলে রাখা হয়নি। মণিকার সঙ্গে অভিজ্ঞ প্যাডলার স্বস্তিকা ঘোষকে রাখা হয়েছে রিজার্ভ তালিকায়। নির্বাচকদের এই সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই টেবল টেনিস মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
পুরুষ দলের নেতৃত্বে থাকছেন মানব ঠক্কর, মনুশ শাহ, হরমিৎ দেশাই, পায়াস জৈন এবং জি. সাথিয়ান। রিজার্ভ হিসেবে রয়েছেন বাংলার আরও দুই প্যাডলার অঙ্কুর ভট্টাচার্য ও রণিত ভঞ্জ। ফলে ভারতীয় দলের সঙ্গে বাংলার প্রতিনিধিত্বও যথেষ্ট উজ্জ্বল।
তবে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নিঃসন্দেহে সিন্ড্রেলা দাস। মাত্র ১৬ বছর বয়সে এশিয়ান গেমসের দলে সুযোগ পেয়ে ভারতীয় টেবল টেনিসে এক নতুন নজির গড়েছেন তিনি। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী প্যাডলার হিসেবে এশিয়াডের মূল দলে জায়গা করে নেওয়া নিঃসন্দেহে তাঁর প্রতিভা ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি। বর্তমানে তিনি স্লোভেনিয়ায় একটি ডব্লিউটিটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। সেখান থেকেই নিজের অনুভূতির কথা জানিয়েছেন এই তরুণ প্রতিভা।
সিন্ড্রেলার কথায়, এশিয়ান গেমসে খেলার স্বপ্নই ছিল তাঁর প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য পূরণ করতে গত কয়েক মাস ধরে একের পর এক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন তিনি। ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের ফলে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়েও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। প্রায় ২০০-র কাছাকাছি অবস্থান থেকে তিনি উঠে এসেছেন শীর্ষ ১০০-র দোরগোড়ায়। দেশের হয়ে খেলার সুযোগকে তিনি যেমন গর্বের বিষয় বলে মনে করছেন, তেমনই এটিকে বড় দায়িত্ব হিসেবেও দেখছেন। তাঁর লক্ষ্য একটাই—ভারতের জন্য পদক জিতে আনা।
উল্লেখ্য, গত এশিয়ান গেমসে টেবল টেনিস থেকে ভারত মাত্র একটি পদক পেয়েছিল। এবার সেই সাফল্যকে ছাপিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়েই নামবে ভারতীয় দল। জাতীয় দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন সৌরভ চক্রবর্তী। বাংলার দুই কন্যার ওপরও থাকবে বিশেষ নজর। তাঁদের হাত ধরেই হয়তো এশিয়াডে ভারতের টেবল টেনিসে নতুন সাফল্যের ইতিহাস লেখা হতে পারে।



