২৩ এপ্রিল মমতা সরকারের হিসাব হবে, গুন্ডাদের জবাব দেব আমরা, অমিত শাহ

জলপাইগুড়িতে এক রাজনৈতিক সভা থেকে ফের তীব্র আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আসন্ন নির্বাচনের আবহে তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা…

Amit Shah questions Mamata over Anandapur

জলপাইগুড়িতে এক রাজনৈতিক সভা থেকে ফের তীব্র আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আসন্ন নির্বাচনের আবহে তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সভামঞ্চ থেকে দাঁড়িয়ে তিনি শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করেন এবং ভোটারদের উদ্দেশে একাধিক কড়া বার্তা দেন।

অমিত শাহ বলেন, “২৩ এপ্রিল আপনারা মমতাদির হিসাব করে দিন, ওঁর গুন্ডাদের হিসাব আমরা করব।” তাঁর এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ভোটের আগে এমন ভাষায় আক্রমণকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তিনি আরও বলেন, “উল্টো করে টাঙিয়ে সোজা করে দেবো।” এই ধরনের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী মঞ্চে দাঁড়িয়ে এ ধরনের কড়া ভাষা ব্যবহার সাধারণত ভোটের উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে তোলে এবং জনমতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

   

সভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে অমিত শাহ বলেন, ভোটারদের উচিত নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া। তিনি দাবি করেন, রাজ্যে পরিবর্তনের সময় এসেছে এবং সেই পরিবর্তনের জন্য বিজেপিকে সমর্থন জানানো প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে “পদ্ম প্রতীক” খুঁজে নেওয়ার আহ্বান। অমিত শাহ বলেন, “আপনারা পদ্ম প্রতীক খুঁজে নিন। তৃণমূলের গুন্ডাদের আমরা খুঁজে নেব।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন দলীয় প্রতীকের প্রচার করেন, অন্যদিকে তৃণমূলকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন।

সভায় তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনে পরিবর্তন এসেছে এবং সেই উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তন প্রয়োজন। জলপাইগুড়ির এই সভা ঘিরে ব্যাপক জনসমাগম লক্ষ্য করা যায়। নববর্ষ পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে এই সভাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের এই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে বিজেপির সক্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।