
ভারত-নেপাল খোলা সীমান্ত বরাবর নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে। (Indo Nepal border)গোয়েন্দা সূত্রে জানা যাচ্ছে, সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় বিদেশি অর্থপুষ্ট কিছু এনজিও ধর্মীয় পরিকাঠামো নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে যা নিয়ে এখন সতর্ক নজর রাখছে কেন্দ্র। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে।
ভারত ও নেপালের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই খোলা সীমান্ত রয়েছে, যা দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক যাতায়াত সহজ করে তুলেছে। কিন্তু এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে বেআইনি কার্যকলাপ বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠছে। সাম্প্রতিক রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, ভুয়ো ভারতীয় মুদ্রা, অস্ত্র এবং মাদক চোরাচালান বেড়ে গেছে উদ্বেগজনক হারে। বিশেষত তথাকথিত ‘Gen-Z’ প্রতিবাদের পর এই প্রবণতা আরও তীব্র হয়েছে বলে মনে করছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি।
গোয়েন্দাদের দাবি, এই চোরাচালানের পেছনে শুধু ছোটখাটো চক্র নয়, বরং সুসংগঠিত অপরাধচক্র কাজ করছে। পঞ্জাব-ভিত্তিক কিছু গ্যাংস্টার এবং আন্ডারওয়ার্ল্ডের সদস্যরা নেপাল নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ। ভারতের মাটিতে অপরাধ করে তারা সহজেই সীমান্ত পেরিয়ে নেপালে আশ্রয় নিচ্ছে, ফলে তাদের গ্রেফতার করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
আরও দেখুনঃ ৮০ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং সহ লঞ্চ হল এই অসাধারণ ফোন, রয়েছে চমৎকার সব ফিচার
এর পাশাপাশি রাজনৈতিক স্তরেও উত্তেজনা বাড়ছে। বালেন শাহের প্রশাসনের কিছু পদক্ষেপকে ‘উসকানিমূলক’ বলেই মনে করছে ভারতের একটি অংশ। বিকৃত মানচিত্র প্রকাশ এবং গান-বাজনার মাধ্যমে ভারতবিরোধী বার্তা ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। যদিও নেপালের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সরাসরি স্বীকার করা হয়নি, তবুও দুই দেশের সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব পড়ছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, খোলা সীমান্ত যেমন দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের প্রতীক, তেমনি তা নিরাপত্তার দিক থেকেও বড় চ্যালেঞ্জ। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নজরদারি বাড়ানো, গোয়েন্দা তথ্যের আদানপ্রদান জোরদার করা এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এই মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরি। এছাড়াও স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই স্থানীয় সহযোগিতা ছাড়া এই ধরনের চোরাচালান বা বেআইনি কাজ সম্ভব হয় না। তাই সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও জোর দিচ্ছে সরকার।

