কলকাতা: আর জি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক নির্যাতন (abhaya case)ও মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলা বহুল আলোচিত ‘অভয়া’ মামলায় ফের একবার তদন্তের গতি ও দিকনির্দেশনা নিয়ে প্রশ্ন উঠল কলকাতা হাইকোর্টে। মামলার শুনানিতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই আদালতে তাদের অগ্রগতি রিপোর্ট জমা দিলেও সেই রিপোর্টে সন্তুষ্ট নয় আদালত। বরং শুনানির সময় বিচারপতিদের একাধিক মন্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে তদন্তের বর্তমান অবস্থান নিয়ে গভীর অসন্তোষ।
আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় বলেন শুনানির সময় প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সিবিআইকে কঠোর প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। আদালত এমনও মন্তব্য করেছে যে, যদি সিবিআই তদন্তে আগ্রহী না হয়, তাহলে আদালতের আর কী করার আছে? বিচারপতিরা নাকি সরাসরি জানতে চেয়েছেন, সিবিআই নিজেই বলুক আদালতের কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
আরও দেখুনঃ আসিম মুনিরকে হত্যার ছক? মোসাদ-যোগের দাবি ঘিরে তোলপাড়, ‘ভুয়ো প্রচার’ বলছে পাকিস্তান
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ২১ মে সিবিআইকে তদন্ত সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনেই রিপোর্ট পেশ করা হয়। একইসঙ্গে আদালতকে জানানো হয় যে মামলার তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। কিন্তু রিপোর্ট জমা দেওয়ার পরও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে আদালতের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় সিবিআইকে।
শুনানির সময় বিচারপতি শম্পা সরকার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানতে চান, সিবিআইয়ের হাতে তদন্তভার তুলে দিতে যে বিলম্ব হয়েছিল এবং যার ফলে সম্ভাব্য তথ্যপ্রমাণ নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে, সেই ঘটনার জন্য দায়ী কারা? বিচারপতির মতে, এটিও একটি গুরুতর অপরাধের বিষয় এবং তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অন্যদিকে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ মন্তব্য করেন, চার্জশিট জমা দেওয়ার পর এক বছর সাত মাস কেটে গেলেও তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। তাঁর এই মন্তব্য আদালতের অসন্তোষকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই সাংবাদিক বৈঠকে মুখ খোলেন নির্যাতিতার পরিবারপক্ষের আইনজীবী জয়ন্তনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানান, নির্যাতিতার মা-বাবা বারবার সিবিআইয়ের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং তদন্তে সহযোগিতা করার জন্য নিজেদের বক্তব্যও জানাতে চেয়েছেন। আদালতের আগের নির্দেশেও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল যে সিবিআই নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলবে এবং তাঁদের বক্তব্যের ভিত্তিতে তদন্তকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি বলেই অভিযোগ করেন তিনি।
জয়ন্তনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান তদন্তকারী দল আগের তদন্তকারী অফিসারের পথেই হাঁটছে। তাঁর কথায়, “আগের তদন্তকারী অফিসারকে রক্ষা করার চেষ্টা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে। বর্তমান সিটও একই পদ্ধতিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এতদিনে কী ফল পাওয়া গেল? আদালত যেমন হতাশ, আমরাও তেমনই হতাশ।”
অভয়া মামলাকে ঘিরে গোটা রাজ্যজুড়ে দীর্ঘদিন ধরেই ন্যায়বিচারের দাবি জোরালো হয়েছে। নির্যাতিতার পরিবারও শুরু থেকেই দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তদন্তের গতি নিয়ে প্রশ্ন আরও বাড়ছে। আদালতের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ এবং পরিবারপক্ষের ক্ষোভ নতুন করে সেই বিতর্ককে উসকে দিয়েছে।



