ঢাকা: যারা সারাদিন ভারতকে গালিগালাজ করে। (Jamaat)ভারতের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলেন। তাদেরই একজনের স্ত্রী আজ দ্বারস্থ হয়েছেন রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদীর কাছে । বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর এক প্রভাবশালী নেতার স্ত্রী মেডিক্যাল চিকিৎসার জন্য ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর কাছে মেডিক্যাল ভিসার আবেদন করেছেন।
এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে এটাকে ‘দ্বিচারিতার চরম উদাহরণ’ বলে মন্তব্য করছেন।জামায়াত নেতা ও তাঁর অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে ভারতবিরোধী বক্তব্য দিয়ে আসছেন। ভারতকে ‘শত্রু’ আখ্যা দিয়ে, সীমান্ত ইস্যুতে উসকানি দিয়ে এবং দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট করার চেষ্টায় লিপ্ত থেকেছেন বলে অভিযোগ। অথচ নিজের পরিবারের সদস্য অসুস্থ হতেই সেই একই ভারতের কাছে সাহায্য চাইতে দ্বিধা করেননি।
আরও দেখুনঃ দায়িত্ব নিয়েই বড় পদক্ষেপ! ফের চালু হচ্ছে ভারতের পর্যটন ভিসা
বাংলাদেশের অনেকে এই ঘটনাকে ‘প্রয়োজনে ‘বাবা’ ডাকা’র সংস্কৃতির সঙ্গে তুলনা করছেন। দীনেশ ত্রিবেদী সম্প্রতি বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। তাঁর আগমনের পর থেকেই জামায়াতের শীর্ষ নেতারা তাঁর বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে সমালোচনায় মেতেছেন। কিন্তু সেই সমালোচনার মাঝেই জামাত নেতার স্ত্রী ভারতীয় হাইকমিশনে মেডিক্যাল ভিসার আবেদন জমা দিয়েছেন। ভারতের হাসপাতালগুলোতে উন্নত চিকিৎসা, সাশ্রয়ী খরচ এবং বিশ্বস্ত সেবার জন্য বাংলাদেশের হাজার হাজার মানুষ প্রতি বছর ভিসার জন্য আবেদন করেন।
এমনকি যারা ভারতবিরোধী রাজনীতি করেন, তাঁরাও চিকিৎসার প্রয়োজনে ভারতমুখী হন।এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেকে বলছেন, “যখন সুবিধা লাগে তখন ভারতের দরজায় হাত পাতা, আর বাকি সময় গালাগালি করা এটা কোন ধরনের নীতি?” একজন ঢাকার বাসিন্দা বলেন, “জামায়াত নেতারা ভারতকে অপমান করে ভোট ব্যাংক তৈরি করেন। কিন্তু নিজের স্ত্রী-সন্তান অসুস্থ হলে সেই ভারতেরই সাহায্য চান। এটা নিছক দ্বিমুখী আচরণ।”ভারতীয় হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, মেডিক্যাল
ভিসা প্রক্রিয়া মানবিক কারণে বিবেচনা করা হয়। তবে এই ধরনের আবেদন যখন ভারতবিরোধী ব্যক্তিদের পরিবার থেকে আসে, তখন তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। দীনেশ ত্রিবেদী নিজে একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর দায়িত্বকালে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু জামায়াতের মতো দলগুলোর অব্যাহত ভারতবিরোধিতা এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক রোগীই ভারতমুখী হন। কলকাতা, চেন্নাই, ব্যাঙ্গালুরু ও দিল্লির হাসপাতালগুলোতে বাংলাদেশি রোগীদের ভিড় লেগেই থাকে। হৃদরোগ, ক্যান্সার, কিডনি, লিভারসহ জটিল রোগের চিকিৎসায় ভারতের সুনাম আছে। কিন্তু যারা রাজনৈতিকভাবে ভারতকে ‘শত্রু’ বলে প্রচার করেন, তাদের এই নির্ভরতা অনেককে হতাশ করে।



