পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে বিজেপির সম্ভাব্য সরকার ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে। বিজেপি যদি বাংলার ক্ষমতায় আসে, তাহলে কেমন হবে সেই সরকারের ক্যাবিনেট? কে বসবেন মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে? কোন নেতাদের হাতে যাবে গুরুত্বপূর্ণ দফতর? এই সব প্রশ্ন ঘিরেই রাজনৈতিক অন্দরে তুমুল জল্পনা। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ নিয়েই আজ, শুক্রবার কলকাতায় আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দলীয় সূত্রে খবর, রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন শাহ (Amit Shah) । আসন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক রদবদল, নির্বাচনী কৌশল এবং সম্ভাব্য নেতৃত্ব সবকিছু নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে, বাংলায় বিজেপির মুখ কে হবেন, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দলের অন্দরে নানা মত রয়েছে। সেই জট কাটাতেই শাহের এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বৃহস্পতিবার রাতেই কলকাতায় পৌঁছনোর কথা ওডিশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝির। তিনিও শুক্রবারের বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গিয়েছে। সম্প্রতি ওডিশায় বিজেপির সরকার গঠনের পর কীভাবে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক সমন্বয় করা হয়েছে, সেই অভিজ্ঞতাও বাংলার নেতাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেন তিনি। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চাইছে পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে আরও শক্ত ভিত গড়ে তুলতে। সেই কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে এই বৈঠককে।
সূত্রের খবর, কলকাতায় পৌঁছেই প্রথমে দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরে পুজো দিতে যাবেন অমিত শাহ। বহুবার বাংলায় এসে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্থানে গিয়েছেন তিনি। দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে তাঁর এই সফরও রাজনৈতিক দিক থেকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বাংলার সংস্কৃতি ও আবেগের সঙ্গে নিজেদের আরও বেশি করে যুক্ত করার বার্তা দিতেই এই পদক্ষেপ বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর শাহ সরাসরি দলীয় বৈঠকে যোগ দিতে পারেন বলে খবর। সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেন রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব, সাংসদ, বিধায়ক এবং সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা নেতারা। বৈঠকে মূলত আগামী দিনের রোডম্যাপ তৈরি, সংগঠনের দুর্বল জায়গা চিহ্নিত করা এবং বিরোধী রাজনীতির মোকাবিলার কৌশল নিয়েই আলোচনা হতে পারে।
বিজেপির অন্দরে বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বাংলায় দলের মুখ কে? একাধিক নেতার নাম ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে। কেউ বলছেন অভিজ্ঞ সাংসদদের মধ্যে থেকেই কাউকে সামনে আনা হতে পারে, আবার কেউ মনে করছেন তরুণ মুখকে তুলে ধরতে পারে দল। তবে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও নাম ঘোষণা করা হয়নি। ফলে শাহের সফর ঘিরে কৌতূহল আরও বেড়েছে।




















