কলকাতা: শনিবারের সকাল টা ছিল ইরানের কাছে দুঃস্বপ্নের। (bunker buster)শুক্রবার রাত থেকেই যুদ্ধের তোড়জোড় শুরু করেছিল আমেরিকা এবং ইসরায়েল। শনিবার সকাল থেকেই ইরানের উপর মুহুর্মুহু যৌথ আক্রমণ শুরু করে ইসরায়েল এবং আমেরিকা। তবে যুদ্ধে বাজিমাত করেছে ইসরায়েলের বাঙ্কার বাস্টার মিসাইল। কারণ ইরানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব ব্যালিস্টিক মিসাইলের তেজ সহ্য করতে না পেরে নিরাপদ বাঙ্কারে লুকিয়েছিল।
কিন্তু ইসরায়েলের বাঙ্কার বাস্টার মিসাইল সেই নিরাপদ আশ্রয়কেও ধ্বংস করে এবং প্রায় সমস্ত সামরিক নেতৃত্বের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে আশ্চর্যের কথা ইসরায়েলের এই বাঙ্কার বাস্টারের খোল তৈরী হয় খোদ বাংলায়। উত্তর ২৪ পরগনার ইছাপুরের অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরিতে গত ৩ বছর ধরে এই বাঙ্কার বাস্টারের খোল তৈরী হচ্ছে। শুধু তাই নয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলা সফরে এসে এই ঐতিহাসিক ফ্যাক্টরিকে মেক ইন ইন্ডিয়ার অন্যতম কারিগর বলেও উল্লেখ করেছিলেন।
আরও দেখুন: ক্রিকেটে নন্দনকাননে সঞ্জু ঝড়, ক্যারিবিয়ানদের উড়িয়ে সেমিতে ভারত
২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলি সেনার চারজন উচ্চপদস্থ আধিকারিক ইছাপুরের এই কারখানাটি পরিদর্শন করেন। সূত্রের খবরে জানা গিয়েছিল তাঁরা মূলত উন্নতমানের মিসাইল বা বোমার খোল তৈরির প্রযুক্তি ও পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে এসেছিলেন। ইছাপুরের এই কারখানাটি ভারী ইস্পাত ঢালাই ও উচ্চমানের মেটাল ফোরজিংস তৈরির জন্য পরিচিত। এখানে কামানের গোলার খোল এবং বিভিন্ন বড় ক্যালিবারের যুদ্ধাস্ত্রের অংশ তৈরি করা হয়।
কেন্দ্রীয় সরকার সূত্রের দাবি, ইজ়রায়েলের এই সেনা আধিকারিকরা কলকাতায় এসে যোগাযোগ করেন ইছাপুরের মেটাল অ্যান্ড স্টিল ফ্যাক্টরির সঙ্গে। প্রাথমিক ভাবে তাঁরা এমএসএফ–কে খোল তৈরির বরাত দিয়ে যান। তারপর বেশ কয়েকটি ১০০ কিলো ওজনের বোমার খোল তৈরী করে তা পরীক্ষা হয় এবং সেগুলি পরীক্ষায় পাস করলে সেগুলি পাঠানো হয় জব্বলপুরে ফিনিশিংয়ের জন্য।
তাই ইরান আক্রমণে ইসরাইলের যতটা কৃতিত্ব বাংলার এই ঐতিহাসিক কারখানার কৃতিত্বও খুব কম নয়। বাঙ্কার বাস্টার হল এমন এক বিশেষ ধরনের অস্ত্র যা মাটির অনেক গভীরে থাকা বা কংক্রিটের তৈরি দুর্ভেদ্য আস্তানা ধ্বংস করতে সক্ষম। এর খোলটি অত্যন্ত শক্ত ধাতু দিয়ে তৈরি করতে হয় যাতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সময় এটি ভেঙে না যায়। আর এই অস্ত্রেই কার্যত আত্মসমর্পনের পথে ইরান। কারণ এই বাঙ্কার বাস্টারের অমোঘ নিশানায় ছাড় পাচ্ছে না বাঙ্কারে লুকিয়ে থাকা সেনা কর্মীরা।




















