পশ্চিম মেদিনীপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের এক প্রভাবশালী আঞ্চলিক নেতার গ্রেফতারিকে (Laxmi Sheet)কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নারায়ণগড় ব্লকের মকরাপুর অঞ্চলের তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি লক্ষ্মী শীট, যিনি লক্ষ্মীকান্ত শীট নামেও পরিচিত, তাঁকে একটি পুরনো ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তৃণমূলের প্রভাবে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেলেও, সাম্প্রতিক তদন্তে নতুন তথ্য সামনে আসার পর পুলিশ সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে হেফাজতে নেয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর এক মহিলাকে দলীয় কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে লক্ষ্মী শীটের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট মহিলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তবে অভিযোগ দায়ের হলেও বিভিন্ন কারণে তদন্ত দীর্ঘদিন ধরে এগোয়নি এবং অভিযুক্ত গ্রেফতারের বাইরে ছিলেন। এই বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মহলেও প্রশ্ন উঠেছিল। অবশেষে পুরনো মামলার নথি পুনরায় খতিয়ে দেখে এবং নতুন কিছু তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করার সিদ্ধান্ত নেয়।
আরও দেখুনঃ ভিয়েতনামের সঙ্গে ভারতের ব্রহ্মোস চুক্তি চূড়ান্ত, ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে আলোচনাও চূড়ান্ত পর্যায়ে
জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা জানিয়েছেন, লক্ষ্মী শীটের বিরুদ্ধে মোট তিনটি পৃথক মামলা নথিভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে একটি মারামারির ঘটনা সংক্রান্ত মামলা, একটি ধর্ষণের মামলা এবং একটি পকসো আইনের অধীনে দায়ের হওয়া মামলা রয়েছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, পুরনো ধর্ষণ মামলার তদন্তেই এমন কিছু তথ্য সামনে এসেছে, যা অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পক্ষে যথেষ্ট বলে মনে করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, সম্প্রতি এলাকায় বেআইনি বালি পাচার চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছিল। সেই তদন্তে গ্রেফতার হওয়া কয়েকজনের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। ওই তথ্যের সূত্র ধরেই পুলিশ লক্ষ্মী শীটের বিরুদ্ধে থাকা পুরনো মামলাগুলিকে নতুন করে পর্যালোচনা শুরু করে। তদন্তের অগ্রগতিতে বিভিন্ন তথ্য ও নথি যাচাইয়ের পর পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
এই ঘটনার সঙ্গে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম উঠে এসেছে। মকরাপুর এলাকার আরেক প্রভাবশালী তৃণমূল নেত্রী কল্পনা শীটকেও বালি পাচার সংক্রান্ত মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বেড়েছে। বিরোধী দলগুলি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাতে শুরু করেছে। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্বের তরফে জানানো হয়েছে, আইন আইনের পথে চলবে এবং কোনও ব্যক্তি বিশেষের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল তাকে সমর্থন করবে না। দলের একাংশের মতে, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারও সম্পর্কে চূড়ান্ত মন্তব্য করা উচিত নয়।
এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই গ্রেফতারি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিনের অভিযোগের পর পুলিশের এই পদক্ষেপ তদন্তের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াবে। আবার কেউ কেউ পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন, যাতে প্রকৃত সত্য সামনে আসে।




















