বহরমপুর: মুর্শিদাবাদের বহরমপুর শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী এলাকা লালদিঘিকে ঘিরে শুরু হয়েছে প্রশাসনিক তৎপরতা (Berhampore)। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা, ফুটপাথ এবং জলাশয়ের আশপাশের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা একাধিক অবৈধ দোকানপাট ও নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিল বহরমপুর পুরসভা। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পুরসভার উদ্যোগে পরিচালিত এই উচ্ছেদ অভিযানে ব্যবহার করা হয় জেসিবি এবং বুলডোজার। অভিযানে লালদিঘি সংলগ্ন এলাকায় থাকা একাধিক বেআইনি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, যার মধ্যে ছিল অবৈধ দোকান এবং জেনারেটর রুম।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই লালদিঘির চারপাশে ফুটপাথ ও রাস্তার একাংশ দখল করে ব্যবসা চলছিল। এর ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলে অসুবিধা হচ্ছিল, পাশাপাশি যানজটও বাড়ছিল। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে ওই এলাকায় পথচারী এবং যানবাহন উভয়েরই সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো। বহুবার অভিযোগ উঠলেও এতদিন বড় ধরনের কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অবশেষে প্রশাসন সক্রিয় হওয়ায় এলাকাবাসীর একাংশ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
আরও দেখুনঃ ১ জুন শপথ! শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় যোগ দিচ্ছেন ১০-১২ জন নতুন মুখ, তালিকায় কারা?
অভিযানের দিন সকাল থেকেই লালদিঘি এলাকায় প্রশাসনিক কর্মব্যস্ততা লক্ষ্য করা যায়। পুরসভার আধিকারিক, পুলিশ এবং প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে গোটা উচ্ছেদ প্রক্রিয়া তদারকি করেন। জেসিবির সাহায্যে একের পর এক অবৈধ কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়। বিশেষ করে লালদিঘির পাড়ে নির্মিত কয়েকটি জেনারেটর রুম এবং স্থায়ী দোকান প্রশাসনের নজরে আসে, যেগুলির বৈধ অনুমতি ছিল না বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই দোকানগুলির অনেকগুলোই কয়েক বছর আগে তৈরি হয়েছিল এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সেগুলি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি বা বরাদ্দ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও এই বিষয়ে প্রশাসনের তরফে সরাসরি কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য করা হয়নি, তবে স্থানীয় মহলে এই বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে ক্ষোভও দেখা দিয়েছে। এলাকার কয়েকজন ছোট ব্যবসায়ী ও হকার অভিযোগ করেছেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ওই জায়গায় ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। হঠাৎ করে দোকান ভেঙে দেওয়ায় তাঁদের আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে হবে। অনেকেই দাবি করেছেন, পুনর্বাসনের কোনও স্পষ্ট পরিকল্পনা তাঁদের জানানো হয়নি। ফলে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন তাঁরা।
অন্যদিকে, পুরসভার বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রশাসনের দাবি, শহরের সৌন্দর্যায়ন, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের চলাচল সহজ করাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। বহরমপুর শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত লালদিঘি শুধু একটি জলাশয় নয়, এটি শহরের ঐতিহ্য ও পরিচয়ের অংশ। তাই এর চারপাশে বেআইনি দখলদারি চলতে দেওয়া যায় না। ভবিষ্যতেও শহরের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযান চলবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ।




















