IRCTC দুর্নীতিতে হাই কোর্টের বড় সিদ্ধান্ত! এবার কি করবেন লালু

নয়াদিল্লি: দিল্লি হাইকোর্টে আজ বড় ধাক্কা খেলেন রাষ্ট্রীয় জনতা দলের প্রধান লালু প্রসাদ যাদব (IRCTC corruption)। IRCTC দুর্নীতি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে চলমান ট্রায়াল স্থগিত করতে অস্বীকার করেছে আদালত। ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
irctc-corruption-case-delhi-high-court-decision

নয়াদিল্লি: দিল্লি হাইকোর্টে আজ বড় ধাক্কা খেলেন রাষ্ট্রীয় জনতা দলের প্রধান লালু প্রসাদ যাদব (IRCTC corruption)। IRCTC দুর্নীতি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে চলমান ট্রায়াল স্থগিত করতে অস্বীকার করেছে আদালত। এই সিদ্ধান্ত লালু যাদবের জন্য এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এতে করে মামলার শুনানি অব্যাহত থাকবে এবং তাঁকে আদালতে হাজিরা দিতে হবে।

জাস্টিস স্বরণা কান্তা শর্মা এই আদেশ দিয়েছেন, যদিও CBI-কে লালুর আবেদনের উত্তর দিতে বলা হয়েছে। পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে ১৪ জানুয়ারি। এই মামলায় লালু যাদবের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী রাবড়ি দেবী, ছেলে তেজস্বী যাদব এবং অন্যান্যরা জড়িত।

   

শুনানির মধ্যেই কমিশনের সিদ্ধান্ত, এক দফায় নির্বাচন হতে পারে ২০২৬-এ!

IRCTC দুর্নীতি মামলার সূত্রপাত ২০০৪-০৯ সালে, যখন লালু প্রসাদ যাদব রেলমন্ত্রী ছিলেন। অভিযোগ, তিনি রেলওয়ের হোটেল টেন্ডারে অনিয়ম করে সুবিধা নিয়েছেন। বিশেষ করে রাঁচি এবং পুরীর IRCTC হোটেলের টেন্ডার দেওয়ার বিনিময়ে জমি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। CBI-র তদন্তে দেখা গিয়েছে, লালুর পরিবারের সদস্যরা এই টেন্ডারের মাধ্যমে লাভবান হয়েছেন।

২০১৭ সালে CBI এই মামলা দায়ের করে, এবং ২০২২ সালে দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউ কোর্ট চার্জ ফ্রেম করে। চার্জগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্রিমিনাল কনস্পিরেসি (IPC 120B), চিটিং (IPC 420) এবং প্রিভেনশন অফ করাপশন অ্যাক্টের ধারা। লালু যাদব এই চার্জ ফ্রেমিংকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন, এবং ট্রায়াল স্থগিত চেয়েছিলেন। কিন্তু আজকের আদেশে কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই পর্যায়ে ট্রায়াল স্থগিত করা যাবে না, কারণ মামলার রেকর্ড না দেখে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।

এই সিদ্ধান্ত লালু যাদবের রাজনৈতিক জীবনে এক বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে তিনি জেলের বাইরে মেডিক্যাল গ্রাউন্ডে জামিনে রয়েছেন, কিন্তু এই মামলা চলতে থাকলে তাঁর উপর চাপ বাড়বে। RJD-র তরফে এখনও সরকারি প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবে দলের নেতারা বলছেন, এটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। তেজস্বী যাদব, যিনি বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তিনিও এই মামলায় আসামি।

এই ঘটনা বিহারের রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন তুলতে পারে, বিশেষ করে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে। লালু যাদবের বিরুদ্ধে এর আগে চারা ঘোটালা মামলায় সাজা হয়েছে, যাতে তিনি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন। এই নতুন ধাক্কায় তাঁর আইনি লড়াই আরও জটিল হয়ে উঠেছে। CBI-র তরফে বলা হয়েছে, তারা আদালতের নির্দেশ মেনে উত্তর দেবে।

মামলায় অভিযোগ, লালুর মন্ত্রিত্বকালে চানক্যা হোটেলস এবং সুজাতা হোটেলসকে টেন্ডার দেওয়ার বিনিময়ে জমি কেনা হয়েছে লালুর পরিবারের নামে। এতে করে সরকারি কোষাগারের ক্ষতি হয়েছে কয়েক কোটি টাকা। ট্রায়াল কোর্টে ইতিমধ্যে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে, এবং আজকের আদেশে সেটা অব্যাহত থাকবে। লালু যাদবের আইনজীবীরা বলছেন, তারা CBI-র উত্তরের পর আরও যুক্তি দেবেন। কিন্তু এই পর্যায়ে স্টে না মেলায় মামলা দ্রুত এগোতে পারে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google