তেহরান: ইরানে অবিক্রিত তেলের স্তূপ জমতে জমতে সংরক্ষণের জায়গা প্রায় ফুরিয়ে আসছে। (oil storage crisis)আমেরিকা কঠোর নৌ-অবরোধের কারণে দেশটির তেল রফতানি হঠাৎ করে তীব্রভাবে কমে যাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের (WSJ) প্রতিবেদন অনুসারে, অবরোধ শুরুর পর ইরানের অপরিশোধিত তেল লোডিংয়ের পরিমাণ প্রতিদিন গড়ে ২১ লক্ষ ব্যারেল থেকে নেমে এসেছে মাত্র ৫ লক্ষ ৬৭ হাজার ব্যারেলে।
এই ধাক্কায় ইরানি অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভে বড় ফাটল ধরেছে।গত ১৩ এপ্রিল থেকে মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের বন্দরগুলোতে কড়া অবরোধ আরোপ করে। স্ট্রেইট অফ হরমুজসহ ইরানের প্রধান তেল রফতানির রুটগুলোতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে চাপে ফেলে শান্তি আলোচনায় বাধ্য করা। ফল হাতে হাতে পাওয়া গেছে। অবরোধের আগে এপ্রিলের প্রথম ১৩ দিনে ইরান প্রতিদিন গড়ে ২১ লক্ষ ব্যারেল তেল লোড করত।
আরও দেখুনঃ শেষ দফা ভোটের আগে স্পর্শকাতর এলাকায় NIA-র বিশেষ তদারকি
কিন্তু ১৪ এপ্রিল থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র পাঁচটি কার্গো লোড করা সম্ভব হয়েছে। এতে দৈনিক গড় লোডিং নেমে এসেছে ৫৬৭,০০০ ব্যারেলে প্রায় ৭৩ শতাংশ হ্রাস।এখন ইরানের তেলক্ষেত্রগুলোতে উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। কারণ উৎপাদিত তেল বিক্রি করতে না পারলে ট্যাঙ্কগুলো ভর্তি হয়ে যায়। ইরান ইতিমধ্যে পুরনো, জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত তেলের ট্যাঙ্কগুলোকে আবার চালু করার চেষ্টা করছে।
আরও দেখুনঃ ইরানের প্রস্তাবে রাজি নন ট্রাম্প! শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হওয়ায় বিস্ফোরক তেহরান
কিছু জাহাজকে অস্থায়ী ভাসমান স্টোরেজ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি চীনের দিকে রেলপথে তেল পাঠানোর অপ্রচলিত উপায়ও খুঁজছে তারা। কিন্তু এসবই সাময়িক সমাধান। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে ইরানকে উৎপাদন অর্ধেকেরও বেশি কমিয়ে ফেলতে হতে পারে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৩ লক্ষ ব্যারেলে নামিয়ে আনতে হবে।ইরানের অর্থনীতির জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা।
আরও দেখুনঃ আগে যুদ্ধ বন্ধ, পরে পরমাণু চুক্তি! পাকিস্তানকে মাধ্যম করে ট্রাম্পকে নয়া প্রস্তাব ইরানের
তেল রফতানি থেকে আসা আয় দেশটির বাজেটের একটি বড় অংশ জোগায়। অবরোধের ফলে রাজস্ব কমে যাওয়ায় ইরানি রিয়ালের দাম আরও পড়েছে, মূল্যস্ফীতি বেড়েছে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চাপ বেড়েছে। অন্যদিকে, বিশ্ববাজারে তেলের দামও প্রভাবিত হয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে প্রায় ১০৮ ডলার প্রতি ব্যারেলে পৌঁছেছে।মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এই অবরোধ ইরানের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টির একটি অংশ।
ইরান অবশ্য এটিকে ‘অবৈধ ও আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী’ বলে নিন্দা করেছে। তেহরান বলছে, তারা বিকল্প রুট ও ছায়া নৌবহর (shadow fleet) ব্যবহার করে রফতানি চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন বলছে, অবরোধ বেশ কার্যকর হয়েছে। ইরানের ‘ঘোস্ট ফ্লিট’-এর কয়েকটি জাহাজও মার্কিন নৌবাহিনী আটকে দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংকট ইরানকে শান্তি আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে ইরান যদি উৎপাদন বন্ধ করে দেয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ব তেলের সরবরাহে প্রভাব পড়বে। বর্তমানে ইরান প্রায় ১৭৪ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ভাসমান স্টোরেজে রেখেছে। স্থলভাগের স্টোরেজ ক্ষমতাও প্রায় পূর্ণ।




















