দাদারা যখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে নামার প্রস্তুতিতে, ঠিক তার আগেই বিশ্ব ক্রিকেটকে ভবিষ্যতের বার্তা দিয়ে দিল ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দল (Indian Cricket Team)। জিম্বাবোয়ের হারারে স্পোর্টিং ক্লাবের মাঠে ইংল্যান্ডকে ১০০ রানে হারিয়ে ষষ্ঠবার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হল ভারত। ব্যাটে বৈভব সূর্যবংশীর বিধ্বংসী শতরান, আর বল হাতে অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রের সময়োচিত আঘাতে একতরফা ফাইনালে পরিণত হল মহারণ।
স্কোরকার্ড
বিশ্বকাপে খেলতে এসে ইডেন থেকে টাইগারদের বার্তা স্কটল্যান্ডের
ভারত: ৪১১/৯ (৮০ ওভার)
বৈভব সূর্যবংশী ১৭৫, আয়ুষ মাত্রে ৫২
মিন্টো ৩/৬৩, গ্রিন ২/৪৯
ইংল্যান্ড: ৩১১
ফ্যালকনার ১১৫, ডকিন্স ৬৬
অম্বরীশ ৩/৫৬, কণিষ্ক ২/৬৩
ভারতের জয় ১০০ রানে
টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে। শুরুটা যদিও প্রত্যাশামতো হয়নি। সেমিফাইনালে সেঞ্চুরি করা অ্যারন জর্জ মাত্র ৯ রান করে ফিরে যান। ইংলিশ বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে প্রথম দিকে থমকে ছিল ভারতের রানগতি। বৈভব সূর্যবংশী তখন ২৩ বলে করেন মাত্র ২৪ রান—যা তাঁর স্বভাবসিদ্ধ আগ্রাসনের ধারেকাছেও নয়।
ভারত ম্যাচ বয়কট করলে পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ‘বিস্ফোরক’ চিঠি লঙ্কার
কিন্তু প্রতিভারা সময় নিলেও থামে না। জেমস মিন্টোর এক ওভারেই বদলে গেল ম্যাচের রং। ১৮ রানের সেই ওভার যেন বৈভবের ভিতরের ঝড়কে মুক্ত করে দিল। তিনটি চার ও একটি ছক্কায় গিয়ার বদলানোর পর আর পেছনে তাকাতে হয়নি।
ফাইনালের মঞ্চে বৈভবের স্বপ্নের ইনিংস
ইংল্যান্ডের বোলারদের কার্যত শাসন করে বৈভব যা খেললেন, তা ফাইনালের মঞ্চে যে কোনও দলের দুঃস্বপ্ন। মাত্র ৮০ বলে ১৭৫ রান সঙ্গে ১৫টি চার ও ১৫টি বিশাল ছক্কা। ডবল সেঞ্চুরি থেকে ২৫ রান দূরে থাকতে আউট হলেও, তখনই ভারতের রান সাড়ে পঁচিশ ওভারে ২৫০ ছুঁয়ে ফেলেছে। বড় ইনিংসের ভিত তখনই গড়ে গিয়েছিল।
তিন নম্বরে নেমে অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে খেলেন দায়িত্বশীল ৫২ রানের ইনিংস। এরপর বেদান্ত ত্রিবেদী (৩২), অভিজ্ঞান কুণ্ডু (৩১ বলে ৪০), বিহান মালহোত্রা (৩০) ও শেষদিকে কণিষ্ক চৌহানের ২০ বলে ৩৭ রানের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ভারতের স্কোরবোর্ড থামে ৪১১ রানে। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে যা রীতিমতো পাহাড়প্রমাণ লক্ষ্য।
বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন তারকা পেসার, ফিরছেন তারকা অলরাউন্ডার!
৪১২ রানের লক্ষ্যে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। অম্বরীশের বলে ফিরে যান জোসেফ মুরস। তবে বেন ডকিন্স ও বেন মেইসের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে তারা। এক সময় ২০ ওভারে ইংল্যান্ডের রান ১৭০ ছাড়িয়ে যায়, ম্যাচে তখনও উত্তেজনার রসদ ছিল।
ঠিক সেই মুহূর্তেই বল হাতে দায়িত্ব নেন অধিনায়ক আয়ুষ। সেট হয়ে যাওয়া ডকিন্সকে ফিরিয়ে ম্যাচের রাশ নিজের হাতে তুলে নেন তিনি। এরপর মাত্র তিন রানের ব্যবধানে চার উইকেট হারিয়ে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় ইংল্যান্ড ১৭৪/৩ থেকে ১৭৭/৭।
অষ্টম উইকেটে ক্যালেব ম্যাথিউ ফ্যালকনার ও জেমস মিন্টো ৯২ রানের জুটি গড়ে শেষ চেষ্টা করেছিলেন। ফ্যালকনারের লড়াকু শতরান (১১৫) ব্যক্তিগত কৃতিত্ব হয়ে থাকলেও দলের ভাগ্য বদলাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ৩১১ রানে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড।
অম্বরীশের তিন উইকেট, কণিষ্ক চৌহান ও দীপেশ দেবেন্দ্রনের দু’টি করে আঘাতে সম্পূর্ণ হয় ইংল্যান্ডের পতন। আর তাতেই নিশ্চিত হয়, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ট্রফি ফের ভারতের ঘরেই। বিশ্বের দরজায় কড়া নাড়ছে ভারতের ছোটরা। আর সেই শব্দ ক্রমেই আরও জোরালো হচ্ছে।




















