আরব সাগরে সন্দেহজনক পাক নৌকা আটক করল ভারতীয় কোস্ট গার্ড

আরব সাগরে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের কাছে ফের একবার ভারতীয় কোস্ট গার্ডের (Coast Guard) সতর্কতা ও দক্ষতার প্রমাণ মিলল। গত ১৪ জানুয়ারি রাতে একটি দ্রুত ও নিখুঁত অভিযানে পাকিস্তানি মাছ ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
indian-coast-guard-intercepts-pakistani

আরব সাগরে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের কাছে ফের একবার ভারতীয় কোস্ট গার্ডের (Coast Guard) সতর্কতা ও দক্ষতার প্রমাণ মিলল। গত ১৪ জানুয়ারি রাতে একটি দ্রুত ও নিখুঁত অভিযানে পাকিস্তানি মাছ ধরার নৌকা ‘আল-মাদিনা’-কে ভারতীয় জলসীমায় আটক করা হয়েছে। নৌকায় ছিলেন ৯ জন পাকিস্তানি ক্রু সদস্য। চ্যালেঞ্জ করা হলে তারা পাকিস্তানের দিকে পালানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু কোস্ট গার্ডের জাহাজ তাদের তাড়া করে আটক করে এবং ভারতীয় জলসীমায়ই বোর্ডিং করে।

গুজরাট ডিফেন্স প্রো উইং কমান্ডার অভিষেক কুমার তিওয়ারি এক্স-এ পোস্ট করে জানিয়েছেন, “রাতের অন্ধকারে প্যাট্রোলিং করতে করতে আরব সাগরে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা রেখা (IMBL)-এর কাছে ভারতীয় জলসীমায় একটি পাকিস্তানি মাছ ধরার নৌকা দেখা যায়। চ্যালেঞ্জ করতেই নৌকাটি পাকিস্তানের দিকে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আইসিজি জাহাজ দ্রুত তাড়া করে আটক করে এবং বোর্ড করে।

   

সুপ্রিম ধাক্কায় কি প্যাঁচে পড়বেন মমতা? ইডির সাকসেস রেট কি বলছে

নৌকায় মোট ৯ জন ক্রু পাওয়া গেছে। নৌকাটি এখন পোরবন্দরে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যেখানে বিস্তারিত তল্লাশি ও সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলির যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ হবে।”এই ঘটনা ভারতীয় সমুদ্রসীমার নিরাপত্তায় কোস্ট গার্ডের অবিরাম সতর্কতার উদাহরণ। গুজরাট উপকূলের কাছে এমন ঘটনা নতুন নয়। ছোট মাছ ধরার নৌকাগুলো প্রায়ই নেভিগেশনের অভাবে বা ইচ্ছাকৃতভাবে সীমানা পেরিয়ে যায়।

কিন্তু এবারের মতো পালানোর চেষ্টা করে ধরা পড়া দেখায়, কোস্ট গার্ডের প্যাট্রোলিং কতটা কড়া। নৌকাটি এখন পোরবন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যেখানে ক্রু সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি নৌকায় কোনও অবৈধ জিনিস (যেমন মাদক, অস্ত্র) আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।পাকিস্তানি মাছ ধরার নৌকা ভারতীয় জলসীমায় ঢোকার ঘটনা বছরের পর বছর ঘটছে। ২০২৫-এর ডিসেম্বরে আরেকটি পাকিস্তানি নৌকা ১১ জন ক্রু নিয়ে আটক হয়েছিল।

২০২৩-এর নভেম্বরে ‘নাজ-রে-করম’ নামে আরেকটি নৌকা ১৩ জন ক্রু নিয়ে ধরা পড়ে। এসব ঘটনায় দেখা যায়, অনেক সময় মাছ ধরার অজুহাতে সীমান্ত লঙ্ঘন হয়, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এর পিছনে অন্য উদ্দেশ্যও থাকতে পারে যেমন গুপ্তচরবৃত্তি বা মাদক চোরাচালান। ২০১৯-এ ‘আল-মাদিনা’ নামেরই একটি নৌকা থেকে ১০০ কেজি হিরোইন উদ্ধার হয়েছিল, যার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ছিল ৬০০ কোটি টাকারও বেশি। তাই এবারের আটকের পর তদন্ত আরও গভীর হবে।

ভারতীয় কোস্ট গার্ডের এই অভিযান দেশের সমুদ্রসীমা রক্ষায় তাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির প্রমাণ। রাতের অন্ধকারে, ঝড়-ঝাপটায়ও তারা অবিরাম পেট্রল করে। এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয় ভারতের সমুদ্রসীমা কোনও দুর্বল লাইন নয়, এটা অটুট নিরাপত্তার প্রতীক। পোরবন্দরে তদন্ত শেষ হলে ক্রু সদস্যদের কী হবে, সেটা পরে জানা যাবে। কিন্তু এখনই স্পষ্ট ভারতের সমুদ্রে অবৈধ প্রবেশের কোনও ছাড় নেই।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google