বাংলায় শুভেন্দু ! তামিলনাড়ুতে কাল বিজয়ের শপথ

vijay-tamil-nadu-chief-minister-oath-tvk

চেন্নাই: বাংলায় যেমন শুভেন্দু অধিকারী, তেমন তামিলনাড়ু (Tamil Nadu)রাজনীতিতেও নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। দক্ষিণী সুপারস্টার বিজয় আগামীকাল সকাল ১১টায় তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন বলে এনডিটিভি সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। তাঁর দল তামিলাগা ভেত্রি কঝাগম (টিভিকে) ইতিমধ্যে ১২০ জন বিধায়কের সমর্থন দাবি করেছে, যা সরকার গঠনের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করবে।

বিজয়ের রাজনৈতিক অভিষেক তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অভিনয় জগৎ থেকে সরাসরি রাজনীতিতে আসা এই তারকা নির্বাচনী প্রচারে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। তিনি জনগণের কাছে বিপুল সংখ্যক কল্যাণমূলক প্রকল্প ও ফ্রিবি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখন শপথ নেওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের বাস্তব পরীক্ষা শুরু হবে।টিভিকে সূত্রে জানানো হয়েছে, ১২০ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে তারা স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।

   

আরও দেখুনঃ ‘শুভেন্দুকে সামলান!’ মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা হতেই মোদীকে হুঁশিয়ারি বাংলাদেশি মৌলবাদীদের

এর ফলে বিজয়ের নেতৃত্বে একক সরকার গঠন সম্ভব হবে বলে দলীয় নেতারা আশাবাদী। শপথ অনুষ্ঠানে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের বড় উপস্থিতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চেন্নাইয়ের ফোর্ট সেন্ট জর্জ বা অন্য কোনো প্রধান ভেন্যুতে এই অনুষ্ঠান হতে পারে।নির্বাচনী প্রচারে ভিজয় যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার মধ্যে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, বাড়তি ভাতা, বেকার যুবকদের জন্য ভাতা, মহিলাদের জন্য বিশেষ প্রকল্প, কৃষকদের ঋণ মকুব এবং বিভিন্ন কল্যাণমূলক স্কিম ছিল প্রধান।

এখন প্রশ্ন উঠছে রাজ্যের আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় এতগুলো ফ্রিবি প্রকল্প কতটা বাস্তবায়ন সম্ভব? তামিলনাড়ুর বর্তমান ঋণের বোঝা ইতিমধ্যে বেশ ভারী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ফ্রিবির ওপর নির্ভর করে দীর্ঘদিন চলা কঠিন।ভিজয়ের সমর্থকরা অবশ্য আশাবাদী। তাঁরা বলছেন, অভিনয় জগতে সাফল্য দেখিয়েছেন যিনি, রাজনীতিতেও তিনি জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবেন। অন্যদিকে বিরোধীরা ইতিমধ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।

তাঁরা বলছেন, “সিনেমার হিরো থেকে রাজনীতির হিরো হওয়া সহজ নয়। প্রতিশ্রুতি দেওয়া এক জিনিস, বাস্তবে পূরণ করা আরেক জিনিস।”রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভিজয়ের সামনে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রথমত, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার অভাব পূরণ করা। দ্বিতীয়ত, বিপুল অর্থের প্রয়োজনীয় ফ্রিবি প্রকল্পগুলোকে টেকসই করা। তামিলনাড়ুর শিল্প, আইটি এবং কৃষি খাতকে চাঙ্গা করে রাজ্যের আয় বাড়ানো না গেলে এসব প্রকল্প চাপে পড়বে।