‘শুভেন্দুকে সামলান!’ মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা হতেই মোদীকে হুঁশিয়ারি বাংলাদেশি মৌলবাদীদের

threats-against-suvendu-adhikari-from-bangladesh

ঢাকা: পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঐতিহাসিক জয় এবং শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বাংলাদেশের একাংশে উদ্বেগ ও ক্ষোভের ঝড় উঠেছে (Suvendu Adhikari)। জুম্মার নামাজের পর বাংলাদেশি মুসলিমদের একটি জমায়েতে ভারতের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে। তাঁরা সরাসরি শুভেন্দু অধিকারীকে লক্ষ্য করে বলেছেন, “আমরা শুভেন্দুকে সতর্ক করছি! ভারতে ১০৭ জন মুসলিম এমএলএ নির্বাচিত হয়েছে।

   

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় আমরা স্বাধীনতা ঘোষণা করব এবং সেই যুদ্ধে আমরাও অংশ নেব। মোদীকে বলুন, এই দুর্বৃত্ত শুভেন্দুকে থামান, না হলে আমরা বাংলাদেশি মুসলিমরা ভারতে ঢুকতে বাধ্য হব।”এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে। বক্তা স্পষ্টতই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়েছেন। শুভেন্দু অধিকারী নির্বাচনী প্রচারে বারবার অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত সুরক্ষার ইস্যু তুলে ধরেছিলেন।

আরও দেখুনঃ মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা হতেই খুশিতে মাতল শুভেন্দুর পাড়া! কোন পথে এই উত্থান

তাঁর কড়া অবস্থানকেই বাংলাদেশের একাংশ ‘দুঃস্বপ্ন’ বলে মনে করছে।রাজনৈতিক মহলে এই হুমকিকে অত্যন্ত গুরুতর বলে দেখা হচ্ছে। বিজেপি নেতারা বলছেন, এটা শুধু শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে নয়, পুরো ভারতের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ উঠছে যে, বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা পশ্চিমবঙ্গসহ সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে ঢুকে জনসংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট করছে।

শুভেন্দু অধিকারী বারবার বলেছেন, “বাংলাকে বাংলাদেশ বানাতে দেব না।” তাঁর এই অবস্থানই প্রতিবেশী দেশের একাংশকে চিন্তিত করে তুলেছে।বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জুম্মার নামাজের পর এ ধরনের সংগঠিত হুমকি সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা। ভারতে নির্বাচিত মুসলিম এমএলএদের উস্কানি দিয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ডে প্ররোচিত করার অভিযোগ উঠেছে।

একই সঙ্গে “ভারতে ঢুকে পড়ব” বলে আক্ষরিক অর্থে অনুপ্রবেশের হুমকি দেওয়া হয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।ভারত সরকার ও পশ্চিমবঙ্গের নতুন প্রশাসন এ বিষয়ে কড়া নজর রাখছে। সীমান্তে বিএসএফের সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। বিজেপি নেতারা বলছেন, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফিরিয়ে পাঠানোর প্রক্রিয়া জোরদার করবে। পুশব্যাক নীতি আরও কার্যকর করা হবে। যারা ভারতের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।