নয়াদিল্লি মধ্যপ্রাচ্যে চলা সংঘাতের জেরে বিশ্বের অন্যতম প্রধান সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতি বড়সড় ধাক্কা খেতে চলেছে। এই পথ দিয়ে শুধুমাত্র খনিজ তেল নয়, বিপুল পরিমাণ অন্যান্য পণ্যেরও আমদানি-রফতানি হয়, যা এই মুহূর্তে কার্যত থমকে রয়েছে। এর ফলে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি ভারতের বাণিজ্য ও অর্থনীতিও চরম ক্ষতির সম্মুখীন। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় ভবিষ্যতে ভারতের জন্য ঠিক কী কী সংকট তৈরি হতে পারে, তা বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
ভারতের অর্থনীতিতে হরমুজ প্রণালী বন্ধের সরাসরি প্রভাব
ভারতের খনিজ তেলের মোট চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশই এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে দেশে আসে। পথ বন্ধ থাকার কারণে বিপুল পরিমাণ এলএনজি (LNG), পিএনজি (PNG) এবং এলপিজি (LPG) সরবরাহ আটকে রয়েছে, যার জেরে দেশে জ্বালানি সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তেলের পরেই ভারতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল কৃষিকাজে ব্যবহৃত সার। বিদেশ থেকে সার আমদানির ক্ষেত্রে ভারতকে এই প্রণালীর উপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হয়। বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সার এই পথ দিয়েই সরবরাহ হয়ে থাকে।
দীর্ঘদিন এই প্রণালী অবরুদ্ধ থাকলে ভারতের কৃষিজাত পণ্যের আমদানি ও রপ্তানিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ইতিমধ্যেই ভারত থেকে বাসমতী চাল রফতানির ক্ষেত্রে বড়সড় বাধা আসতে শুরু করেছে।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা অ্যালুমিনিয়াম সরবরাহের মূল ভরসাও এই প্রণালী। সারা বিশ্বের মোট অ্যালুমিনিয়াম সাপ্লাইয়ের ১৫ শতাংশ এই এলাকা দিয়ে হয়, যা এখন পুরোপুরি ব্যাহত।
সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ তিন আরব রাষ্ট্র Strait of Hormuz Blockade
হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে উপসাগরীয় দেশ কুয়েত, কাতার এবং বাহারিন সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এই দেশগুলির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পুরোটাই হরমুজ প্রণালী-নির্ভর। ফলে এই দেশগুলি থেকে ভারতে আসা সমস্ত পণ্য সরবরাহ আপাতত বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
তেল সরবরাহে বিকল্প পথ কী হতে পারে?
এই চরম সংকটের মাঝে জ্বালানি সাপ্লাই চেইন সচল রাখতে কয়েকটি বিকল্প পথের সন্ধান করছেন বিশেষজ্ঞরা৷ জলপথে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহকারী দেশ হল সৌদি আরব। তাদের অভ্যন্তরীণ ৭৪৬ মাইল দীর্ঘ পাইপলাইন ব্যবহার করে লোহিত সাগরের (Red Sea) টার্মিনাল থেকে তেল রফতানি করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির তেলখনি (Oilfield) থেকে ওমানের বন্দর পর্যন্ত একটি শক্তিশালী পাইপলাইন রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে এই পথটিকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা চলছে।
ইরাক থেকে তুরস্কের মধ্য দিয়ে ভূমধ্যসাগরের তীর পর্যন্ত বিস্তৃত পাইপলাইনটিকেও হরমুজ প্রণালীর বিকল্প হিসেবে তেল সরবরাহের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে কি না, তা বিবেচনা করে দেখা হচ্ছে।



















