মেহবুবার হাতে পুড়ে ছাই হল ট্রাম্প-নেতানিয়াহু

শ্রীনগর: শ্রীনগরের রাস্তায় বুধবার দেখা গেল অভাবনীয় দৃশ্য। পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (Mehbooba Mufti) প্রধান মেহবুবা মুফতি নেতৃত্বে একটা প্রতিবাদ সভা করেছেন। সেখানে তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট…

mehbooba-mufti-protest-srinagar-trump-netanyahu-posters-burned

শ্রীনগর: শ্রীনগরের রাস্তায় বুধবার দেখা গেল অভাবনীয় দৃশ্য। পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (Mehbooba Mufti) প্রধান মেহবুবা মুফতি নেতৃত্বে একটা প্রতিবাদ সভা করেছেন। সেখানে তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর পোস্টার জ্বালিয়ে দিলেন। এই প্রতিবাদ ইরানের উপর আমেরিকা-ইজরায়েলের বিমান হামলা এবং ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর বিরুদ্ধে।

প্রতিবাদকারীরা খামেনেইয়ের পোস্টার উঁচু করে ধরে স্লোগান দিচ্ছিলেন, “খামেনেই জিন্দাবাদ” এবং আমেরিকা-ইজরায়েল বিরোধী নানা নারা। মেহবুবা মুফতি বললেন, “এই স্যাটানিক ফোর্সগুলোর ছবি জ্বালিয়ে আমরা ইরানের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছি।” তিনি এমনকি আমেরিকান ফিনান্সিয়ার জেফরি এপস্টাইনের পোস্টারও জ্বালান, যার সঙ্গে ট্রাম্পের যোগসূত্রের কথা প্রচারিত।প্রতিবাদে পিডিপি কর্মীরা জড়ো হয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন।

Advertisements

আরও দেখুন: অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী! তেল থেকে সার, ঘোর সঙ্কটে ভারতের অর্থনীতি?

শ্রীনগরের লাল চক-এর মতো এলাকায় এই ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে, যেখানে অ্যান্টি-ইউএস এবং অ্যান্টি-ইজরায়েল স্লোগান উঠেছে। মেহবুবা কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র সমালোচনা করেন যে তারা খামেনেইয়ের মৃত্যুর নিন্দা করেনি বা ইরানের প্রতি সমবেদনা জানায়নি। তিনি বলেন, “ভারত যখন নিউক্লিয়ার টেস্টের জন্য স্যাঙ্কশনের মুখোমুখি হয়েছিল, তখন শুধু ইরান আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। আজ তাদের উপর আগ্রাসন হচ্ছে, আর দিল্লি নীরব।”

তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যবস্থা এখন বিশৃঙ্খল, যেখানে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর মতো নেতারা যা খুশি করছে।এই প্রতিবাদ হাজার হাজার মাইল দূরের ঘটনার জন্য। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আগুন কাশ্মীরের রাস্তায় পৌঁছে গেছে। অনেকে এতে অবাক হচ্ছেন কেন্দ্রীয় সরকারের নীরবতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা এক কথা, কিন্তু ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর পোস্টার জ্বালানো আর খামেনেইয়ের প্রতি সমর্থন দেখানো অন্য কথা। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন প্রশ্ন উঠছে যখন কাশ্মীরে বা ভারতে জঙ্গি হামলা হয়েছে, তখন কি মেহবুবা মুফতি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পোস্টার বা এফিজি জ্বালিয়েছেন?

কখনো এমন দৃশ্য দেখা যায়নি। পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গিদের হামলায় শত শত ভারতীয় জওয়ান-নাগরিক মারা গেছে, কিন্তু সেইসব ঘটনায় পাক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন প্রতীকী প্রতিবাদ কোথায়?এই ঘটনা কাশ্মীরের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। পিডিপি-র এই অবস্থান অনেকের কাছে বিদেশি নীতির প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহ বলে মনে হচ্ছে, যখন স্থানীয় সমস্যা যেমন বেকারত্ব, উন্নয়ন, নিরাপত্তা অনেক বেশি জরুরি।

অন্যদিকে, মেহবুবা মুফতি বলছেন, এটা শান্তির পক্ষে দাঁড়ানো। তিনি বলেন, “যারা শান্তির পক্ষে, তাদের সঙ্গে আমি আছি।” কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে ইরানের সঙ্গে সংহতি দেখানো হলেও ভারতের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী । ভারত-ইরানের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে ভালো, কিন্তু ভারতের বিদেশনীতি স্বাধীন ও ব্যালেন্সড।