নয়াদিল্লি: চলতি সপ্তাহে দেশজুড়ে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে চলেছে গরমের দাপট। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও প্রায় ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। উত্তর ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে পারদ একলাফে ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছনোর আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সোমবারই ‘ইন্ডিয়া মেটিওরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট’ (IMD) দেশের একাধিক রাজ্যে তীব্র তাপপ্রবাহের (Heatwave) বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। (IMD Heatwave Warning India 16 States)
১৬টি রাজ্যে অরেঞ্জ এবং ইয়েলো অ্যালার্ট!
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৮ মে থেকে ২৪ মে পর্যন্ত দেশের এক বিশাল অংশে সূর্যদেব অগ্নিশর্মা হয়ে থাকবে। এই তালিকায় রয়েছে, জম্মু, লাদাখ, পঞ্জাব, হরিয়ানা, চণ্ডীগড়, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, রাজস্থান, ছত্তীসগঢ়, গুজরাত, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, ওড়িশা, তেলঙ্গানা এবং অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী এলাকা। এমনকি রাজধানী দিল্লিতেও ১৯ থেকে ২২ মে-র মধ্যে পারদ ৪৫ ডিগ্রি ছুঁতে পারে। গত রবিবারই উত্তরপ্রদেশের বান্দায় পারদ ৪৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে রেকর্ড তৈরি করেছে।
রাতে নেই রেহাই, বাড়ছে অসুস্থতার ঝুঁকি
মৌসম ভবন জানিয়েছে, দেশের বহু অংশে দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৫-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকছে। শুধু দিন নয়, রাজস্থান ও বিদর্ভের মতো এলাকায় রাতের তাপমাত্রাও ২৯ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে ঘোরাফেরা করছে, যা পরিস্থিতিকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, দীর্ঘ সময় ধরে এই তীব্র গরমে থাকলে হিট স্ট্রোকের মতো মারাত্মক অসুস্থতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং ক্রনিক রোগে আক্রান্তদের বাড়তি সাবধানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আমজনতার জন্য আবহাওয়া দফতরের গাইডলাইন:
- পিপাসা না পেলেও পর্যাপ্ত পরিমাণে জল এবং ওআরএস (ORS) পান করুন।
- একটানা চড়া রোদে থাকা এড়িয়ে চলুন।
- রোদে বেরোলে অবশ্যই মাথা ঢেকে রাখুন এবং হালকা রঙের সুতির পোশাক পরুন।
কৃষক ও গবাদি পশুর জন্য বিশেষ পরামর্শ
তীব্র দাবদাহের কারণে ফসলের ক্ষতি এড়াতে চাষিদের সবজি, মুগ ডাল এবং পেঁয়াজের চারাগাছে হালকা কিন্তু ঘন ঘন জল সেচ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আখ ও তুলো চাষেও পর্যাপ্ত জলের জোগান বজায় রাখতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, গবাদি পশুদের ‘হিট স্ট্রেস’ বা গরমের ধকল থেকে বাঁচাতে পোল্ট্রি ফার্মের চাল ঘাস বা খড় দিয়ে ঢেকে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।
এল নিনোর ছায়া ও বর্ষার আগমন
গরমের এই তীব্রতার মধ্যেই স্বস্তির খবর, আন্দামানে ইতিমধ্যেই (১৬ মে) দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা প্রবেশ করেছে এবং আগামী ২৬ মে তা কেরলে ঢুকে যাবে। তবে চিন্তার ভাঁজ কপালে রাখছে ‘এল নিনো’ (El Nino)। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, আগামী জুলাই মাসে এল নিনো সক্রিয় হয়ে উঠলে এ বছরের চার মাসের বর্ষাকালে সামগ্রিকভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হতে পারে।




















