ফের সফল মোদী! দেশে অনুমোদন পেল ১,২৭৫০০ কোটির সেমিকন্ডাক্টর হাব

নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ফের সফলতার কাছে সেমিকন্ডাকটর হাবের স্বপ্ন (Semicon 2.0)। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ভারতকে সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনের আন্তর্জাতিক হাব বানানোর জন্য সেমিকন…

semicon-2-india

নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ফের সফলতার কাছে সেমিকন্ডাকটর হাবের স্বপ্ন (Semicon 2.0)। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ভারতকে সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনের আন্তর্জাতিক হাব বানানোর জন্য সেমিকন ২.০ প্রকল্পটি অনুমোদন করেছে। এই প্রকল্পে মোট বরাদ্দ করা হয়েছে ১ লক্ষ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এই ঘোষণার পর দেশের প্রযুক্তি ও শিল্প মহলে উৎসাহের হাওয়া বইছে।

কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেছেন, “আমরা সবাই জানি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প হলো আধুনিক উৎপাদনের ভিত্তি। মোবাইল ফোন, ক্যামেরা, ফ্রিজ, টিভি, এসি থেকে শুরু করে স্কুটার, গাড়ি, ট্রেন এমনকি ক্ষেপণাস্ত্র সবকিছুতেই সেমিকন্ডাক্টর চিপ অপরিহার্য।” তিনি আরও জানান, এই উদ্যোগ শুধু চিপ তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, পুরো ইলেকট্রনিক্স ভ্যালু চেইনকে কভার করবে।

আরও দেখুনঃ ৫০ লক্ষ যৌতুক দাবি-বাড়িতে অন্য মেয়ে নিয়ে এসে নোংরামি! পুলিশকর্মী স্বামীকে চরম শিক্ষা আইনজীবী স্ত্রীর

মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সেমিকন্ডাক্টর তৈরির জটিলতা বোঝাতে এক অসাধারণ উদাহরণ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “কল্পনা করুন, আপনার নখের ওপর আপনার নাম লেখা সম্ভব। কিন্তু যদি বলা হয় সেই একই নখের ওপর পুরো রামায়ণ বা মহাভারত লিখতে হবে? সেমিকন্ডাক্টর ফ্যাব্রিকেশন প্রক্রিয়া ঠিক সেই পর্যায়ের জটিলতা ও নিখুঁততার দাবি রাখে।”

তিনি ব্যাখ্যা করেন, প্রক্রিয়াটি শুরু হয় কাঁচামাল থেকে সিলিকন ইনগট তৈরি দিয়ে। তারপর সেই ইনগট কেটে ওয়েফার বানানো হয়। এরপর আসে ফ্যাব্রিকেশনের অত্যন্ত জটিল ধাপ। সেমিকন ২.০ প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত শুধু ডিজাইন নয়, উন্নতমানের সেমিকন্ডাক্টর ফ্যাব্রিকেশন, অ্যাসেম্বলি, টেস্টিং ও প্যাকেজিংয়েও নিজেকে শক্তিশালী করতে চায়। এতে দেশের ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন ক্ষমতা বহুগুণ বাড়বে।

বর্তমানে বিশ্বের সেমিকন্ডাক্টর বাজারে ভারতের অংশীদারিত্ব খুবই কম। এই প্রকল্প সফল হলে আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং দেশ ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর লক্ষ্য আরও কাছে চলে আসবে।এই উদ্যোগের ফলে লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে যুবক-যুবতীরা উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ পাবেন। গাড়ি, মোবাইল, টেলিকম, প্রতিরক্ষা, চিকিৎসা প্রায় সব খাতেই এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আরও দেখুনঃ সব পদ থেকে ইস্তফা! মমতার হাত ছাড়লেন মদন মিত্র

মন্ত্রী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, এই প্রকল্প পুরো ইলেকট্রনিক্স ভ্যালু চেইনকে শক্তিশালী করবে, যা ভারতকে বিশ্বের সাপ্লাই চেইনে গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে দেবে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে সাফল্য পেতে হলে শুধু টাকা বরাদ্দ করলেই হবে না। দক্ষ জনবল, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্ব জরুরি। সরকার ইতিমধ্যে তাইচান, স্যামসাং, ইনটেলের মতো বড় কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। সেমিকন ২.০-এর মাধ্যমে ভারতকে এই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আরও দেখুনঃ কাছে গিয়েও অধরা ডিলিমিটেশন! NDA র চালে বাড়া ভাতে ছাই সুপ্রিয়ার